বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আজ বিটিসিএল কর্মকর্তার সাক্ষ্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম

জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আজ বিটিসিএল কর্মকর্তার সাক্ষ্য

ট্রাইব্যুনালে আজ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সারাদেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। রোববার ১৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই মামলার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেবেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

প্রসিকিউশন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, স্পর্শকাতর এই মামলার নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সাক্ষীর সুরক্ষা নিশ্চিতে ওই কর্মকর্তার নাম আপাতত গোপন রাখা হয়েছে। 

আজকের বিচারিক কার্যক্রমের শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একজন কর্মকর্তাকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। বিটিআরসি কর্মকর্তার জেরা পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই বিটিসিএল কর্মকর্তার নতুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, অভিযুক্ত দুই আসামির মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকলেও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এখনও পলাতক রয়েছেন। জয় পলাতক থাকায় আইনি প্রক্রিয়া বজায় রাখতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তার পক্ষে লড়াই করার জন্য আইনজীবী মনজুর আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশে জুনাইদ আহমেদ পলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করেন। 

এই বক্তব্যের সূত্র ধরেই পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা নৃশংস ও প্রাণঘাতী হামলা চালায়।তদন্ত প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, জয় ও পলকের যোগসাজশেই তৎকালীন সময়ে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই শাটডাউনের আড়ালে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাযজ্ঞ চালানোর প্ররোচনা ও সরাসরি সহায়তা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে বলে প্রসিকিউশন দাবি করেছে। 

প্রথম দফার অভিযোগে রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ অন্তত ২৮ জনের মৃত্যুর জন্য তাদের দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া উত্তরা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর চালানো হামলায় ৩৪ জনকে হত্যার ঘটনায় তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক চার্জ বা অভিযোগপত্র আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। আজ পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই আলোচিত ও ঐতিহাসিক মামলার বিচার কাজ আরও এক ধাপ চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের নজর এখন ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্তের দিকে, যেখানে ইতিহাসের অন্যতম বড় ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের পেছনের অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে।