এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিরাজগঞ্জের একটি আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুনানি শেষে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য এবং আইনি অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই একাধিক ইস্যুতে মন্তব্য করে তিনি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
আদালত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের আদালতে দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে নির্ধারিত দিনে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই পরোয়ানা তামিল করার জন্য বলা হয়েছে।
আদালতের এই আদেশ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মুফতি আমির হামজার নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়াসহ সর্বত্র ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এই ঘটনার আগে গত ১৩ এপ্রিল মুফতি আমির হামজাকে একটি লিগ্যাল নোটিশ বা আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বদলি নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে অত্যন্ত আপত্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরে তাকে ওই নোটিশ দেওয়া হয়। আমির হামজা প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন যে, কুষ্টিয়ার বর্তমান জেলা প্রশাসক ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা বিপুল অঙ্কের ঘুষ দিয়ে এই জেলায় বদলি হয়ে এসেছেন। রাষ্ট্রের একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তোলায় প্রশাসনিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
লিগ্যাল নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ করা কেবল জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত সম্মানহানি নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করেছে। নোটিশে তাকে নিজের বক্তব্যের সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন অথবা জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই সিরাজগঞ্জের আদালত থেকে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় মুফতি আমির হামজা এখন বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন