এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ৮ বছর আগে মিলন বাহাদুর নামে এক মোটরসাইকেল চালককে হত্যার পর মরদেহ গুমের ঘটনায় ছেলে ও তাঁর মাকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলার রায়ে ছেলেকে যাবজ্জীবন এবং তাঁর মাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এই আদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামের মো. সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী মোসা. রেহানা বেগম (৫০) ও ছেলে মো. তাজিম (২৮)।
আদালত তাজিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে তাজিমের মা রেহানা বেগমকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় রেহানা আদালতে উপস্থিত থাকলেও তাঁর ছেলে তাজিম বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।আদালত সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেল কেনাবেচার লেনদেন নিয়ে মোটরসাইকেল চালক মিলনের সঙ্গে তাজিমের বিরোধ ছিল। এর জের ধরে ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে উপজেলার বয়ারহুলা মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড থেকে মিলনকে তাঁর মোটরসাইকেলসহ ভাড়া নেন তাজিম ও অন্য এক যুবক। রাতে বাড়ি না ফেরায় মিলনের পরিবার তাঁকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকে। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারি নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন নিহত মিলনের বাবা শাহাদত বাহাদুর। তদন্তের একপর্যায়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি তাজিমের বাড়ির শৌচাগারের সেফটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে মিলনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, মিলনকে হত্যার পর তাজিম তাঁর মায়ের সহযোগিতায় মরদেহটি সেখানে গুম করেছিলেন।
এ ঘটনায় নিহত মিলনের বাবা শাহাদাত বাহাদুর ওই দিনই নেছারাবাদ থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো। রায় ঘোষণার সময় আদালত অন্য দুই অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন