মে ৫, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সময় শাপলা চত্বরের অভিযানে সারাদেশে ৫৮ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এই মামলায় প্রধান আসামি করা হবে শেখ হাসিনাকে। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল হেফাজতে ইসলামকে নিধন করা।
প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ৭ জুনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এই মামলায় ৩০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর।
পবিত্র কোরআন ও মহানবী (সা.)-এর প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচি পালন করে হেফাজতে ইসলাম। ওইদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা আলেম ও মাদরাসা শিক্ষার্থীরা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেন। দিনভর উত্তেজনার পর মধ্যরাতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালালে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। সেই অভিযানে বিপুল সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন তথ্য প্রচারিত হয়ে আসছে। ২০২৫ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম তাদের পক্ষ থেকে ৯৩ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ তাদের প্রতিবেদনে ৬১ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। এছাড়া ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘শহীদনামা’ গ্রন্থে ৪১ জন নিহতের তথ্য তুলে ধরা হয়।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর এই ঘটনা নিয়ে পুনরায় বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। সেই অভিযোগে শেখ হাসিনা ও ইমরান এইচ সরকারসহ ৫৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামি তালিকায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং পুলিশের সাবেক তিন আইজিপির নাম রয়েছে। বর্তমান সরকার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন