রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

বিচারপতির নাম ভাঙিয়ে ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৯, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

বিচারপতির নাম ভাঙিয়ে ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবন

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ম্যানেজ করা এবং রায় পক্ষে আনার কথা বলে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ কোটি সাড়ে ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে আবুল হাসেম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। রাজধানীর ফুলবাড়িয়ার সিটি প্লাজা মার্কেটের বেজমেন্টের তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কে এম সোহেল এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। 

আজ মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ তারিখে এই ঘটনায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে মামলা দায়েরের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ শাহবাগ থানায় এই সংক্রান্তে একটি তদন্তাধীন অভিযোগও দায়ের করেছেন।

সিটি প্লাজার বেজমেন্টের দোকানগুলোর বৈধতা নিয়ে সাবেক মেয়রদের সময় দ্বন্দ্ব শুরু হলে ব্যবসায়ীরা আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। মামলা পরিচালনার জন্য হাইকোর্টে আইনজীবী খুঁজতে গিয়ে কে এম সোহেল অভিযুক্ত আবুল হাসেমের শরণাপন্ন হন। 

হাসেম নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের একজন লইয়ার পরিচয় দিয়ে লিখিত চুক্তি করেন এবং মামলার পিটিশনার বা অ্যাডেড পার্টি করানোর কথা বলে প্রথমে নগদ ৫০ লাখ টাকা নেন। পরবর্তীতে কোর্টের বিভিন্ন অর্ডার ও বিচারক ম্যানেজ করার নাম করে দফায় দফায় মোট ৫ কোটি ২১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনে উচ্চ আদালতের কোনো বিচারপতির সম্পৃক্ততা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

ব্যবসায়ী সোহেল জানান যে কোনো বিচারপতির সঙ্গে তাঁর কখনো দেখাও হয়নি এবং তাঁরা কোনো টাকা পয়সাও চাননি, মূলত অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম তাঁদের নাম বিক্রি করে এই দুই নাম্বারি করেছেন। প্রভাব বিস্তারের জন্য হাসেম জাজ অনুপস্থিত থাকার সুযোগে এক বিচারপতির খাস কামরায় পেছনের দরজা দিয়ে নিয়ে গিয়ে চা খাইয়েছিলেন। পরে প্রতারণা বুঝতে পেরে ব্যবসায়ীরা অন্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের নিয়োগ দিয়ে নিজেদের পক্ষে রায় পান। বার কাউন্সিলের নথিমতে অভিযুক্ত আবুল হাসেম আসলে সুপ্রিম কোর্টের কোনো আইনজীবী নন, তিনি ২০০৯ সালে ঢাকা বারের সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হন যার সদস্য নম্বর ১৯৯৬৮।

অভিযুক্ত আবুল হাসেম এই অর্থ আত্মসাতের পুরো অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো কে এম সোহেলের মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।তিনি দাবি করেছেন যে তিনি হাইকোর্টে কোনো মামলার চুক্তি নেননি এবং ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিজেই জাজমেন্ট চুরি করেছিলেন। বর্তমানে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আল মোমেন এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নথিপত্র যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। ইব্রাহিম ম্যানশনের ঠিকানাযুক্ত প্যাডে নিজ স্বাক্ষর ও সিল দিয়ে তৈরি করা একটি বিলে হাসেমের এক কোটি চার লাখ টাকা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ তদন্তকারী দলের হাতে এসেছে।