এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
আজকের দিনে কাজ, পড়াশোনা কিংবা বিনোদন—সবকিছুতেই আমাদের স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা কয়েক গুণ বেড়েছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের উজ্জ্বল আলো চোখের সামনেই থাকছে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের মুখোমুখি থাকার ফলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া কিংবা মাথা ব্যথার মতো সমস্যা আমাদের কাছে পরিচিত হলেও এর নেপথ্যে এক বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি লুকিয়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডিজিটাল ডিভাইসের সামনে থাকা কেবল ত্বক নয়, বরং শরীরের সামগ্রিক বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডিজিটাল এজিং নামে পরিচিত।
ডিজিটাল ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলো বা ব্লু-লাইট হলো এই অকাল বার্ধক্যের অন্যতম প্রধান কারণ। সূর্যের আলোতে নীল আলো থাকলেও স্ক্রিনের একেবারে কাছে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে এই উচ্চশক্তির আলো সরাসরি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে।
এটি ত্বকের কোষে ফ্রি র্যাডিক্যালস তৈরি করে যা ডিএনএকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম। এর ফলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখা কোলাজেন ও ইলাস্টিন দ্রুত ভেঙে যায় এবং ত্বক ঢিলে হয়ে বলিরেখা দেখা দিতে শুরু করে। এছাড়া এই নীল আলো ত্বকে মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়ে কালো দাগ বা হাইপারপিগমেন্টেশনের সৃষ্টি করে যা একজন মানুষকে বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক দেখায়।
পারিবারিক বা কর্মজীবনের ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় ঘুমের সময়ের ওপর এই ডিজিটাল প্রভাবকে গুরুত্ব দিই না। অথচ ঘুমানোর আগে স্ক্রিন দেখলে নীল আলো মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। এর ফলে স্বাভাবিক ঘুমের চক্র ব্যাহত হয় এবং শরীরের কোষ মেরামতের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে শরীর অভ্যন্তরীণভাবে দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যায়। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় মাথা নিচু করে ফোন ব্যবহারের ফলে ঘাড়ের ত্বক ঢিলে হয়ে যায় যাকে বর্তমানে টেক নেক বলা হচ্ছে। এটি ঘাড়ের চারপাশে স্থায়ী বলিরেখা তৈরি করে বার্ধক্যের ছাপ আরও স্পষ্ট করে তোলে।
ডিজিটাল এজিং থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। কম্পিউটারে ব্লু-লাইট ফিল্টার বা নাইট মোড ব্যবহার করা ত্বক ও চোখের জন্য সহায়ক হতে পারে। চোখের ক্লান্তি কমাতে ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করা যেতে পারে যেখানে প্রতি ২০ মিনিট অন্তর ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকতে হয়। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকা এবং নিয়মিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ স্কিনকেয়ার ব্যবহার করা ত্বকের সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে। সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং স্ক্রিনকে চোখের সমান্তরালে রাখলে টেক নেক এর মতো সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন