রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাঁস, মুরগি নাকি কোয়েল: কোন ডিমে পুষ্টি সবচেয়ে বেশি?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ৩, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

হাঁস, মুরগি নাকি কোয়েল: কোন ডিমে পুষ্টি সবচেয়ে বেশি?

ডিমের পুষ্টির ভিন্নতা

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম প্রায় অপরিহার্য একটি উপাদান। তবে হাঁস, মুরগি বা কোয়েলের ডিমের পুষ্টিগুণে যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে, তা অনেকেরই অজানা। সুস্বাস্থ্যের জন্য কোন ডিমটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর, তা জানা জরুরি।দেশি মুরগির ডিম ও ফার্মের মুরগির ডিমের মধ্যে পুষ্টির দিক থেকে খুব বেশি ব্যবধান নেই। তবে ওজনে পার্থক্য দেখা যায়। 

একটি দেশি মুরগির ডিমের গড় ওজন প্রায় ৩৮ গ্রাম, যেখানে ফার্মের মুরগির ডিমের ওজন প্রায় ৬০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। ফার্মের মুরগিকে ভিটামিন, খনিজ, ভুট্টা ও গমের মিশ্রণে তৈরি বিশেষ খাদ্য দেওয়ায় এর ডিমে প্রোটিন, ফ্যাট ও খনিজ উপাদানের পরিমাণ দেশি মুরগির ডিমের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকে। বিশেষ করে ফ্যাট কমাতে চাইলে হাঁসের ডিমের চেয়ে মুরগির ডিম বেশি সহায়ক বলে মনে করা হয়।

হাঁসের ডিম ও মুরগির ডিমের পুষ্টিগুণ প্রায় কাছাকাছি হলেও হাঁসের ডিমে শক্তির পরিমাণ কিছুটা বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে ১৮১ কিলো-ক্যালরি শক্তি থাকে। এতে ১৩.৫ গ্রাম প্রোটিন, ১৩.৭ গ্রাম ফ্যাট, ৭০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ২৬৯ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন-এ পাওয়া যায়।

তবে পুষ্টিগুণের বিচারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কোয়েলের ডিম। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ৪০ বছরের পর নিয়মিত মুরগির ডিম খেতে নিরুৎসাহিত করেন, কারণ এতে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোয়েলের ডিম একটি নিরাপদ বিকল্প হতে পারে। কোয়েলের ডিমে প্রচুর পরিমাণে রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি-২ থাকে, যা শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত কার্যকর।

এ ছাড়া কোয়েলের ডিমে থাকা ভিটামিন বি কমপ্লেক্স উপাদানগুলো লিভার, ত্বক, চুল ও চোখের সুস্থতায় কাজ করে। এতে থাকা সেলেনিয়াম নামক খনিজ প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এই খনিজের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দেহকোষের ক্ষয় রোধ করে এবং ভিটামিন-এ চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।