জুন ২৭, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
আজ ২৭ জুন আন্তর্জাতিক বধির-অন্ধ দিবস। দৃষ্টি ও শ্রবণ — এই দুই ইন্দ্রিয়েই গুরুতর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও সমাজে অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরতেই বিশ্বজুড়ে দিনটি পালন করা হচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ঘোষিত এই বিশেষ দিনটি মূলত বিশ্বখ্যাত লেখক ও সমাজকর্মী হেলেন কেলারের জন্মদিন উপলক্ষে উদযাপিত হয়।দুই ধরনের শারীরিক সীমাবদ্ধতা নিয়েও হেলেন কেলার বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের অনুপ্রেরণার প্রতীক।
জাতিসংঘের মতে, বধির-অন্ধত্ব শুধু দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি হারানোর বিষয় নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র প্রতিবন্ধকতা। কারণ এক ইন্দ্রিয়ের সীমাবদ্ধতা অন্য ইন্দ্রিয় দিয়ে পূরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষা, যোগাযোগ, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই ভুক্তভোগীদের আলাদা ধরনের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সহায়তার প্রয়োজন হয়।
কিন্তু বাংলাদেশে এই প্রতিবন্ধকতার শিকার ব্যক্তিরা এখনো নানা অবহেলা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। দেশে এখনো তাদের জন্য নির্ভরযোগ্য কোনো জাতীয় তথ্যভান্ডার বা পরিসংখ্যান নেই। এর ফলে ঠিক কতজন মানুষ এই দ্বৈত প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবনযাপন করছেন, তা নির্দিষ্ট করে জানা যায় না। পরিসংখ্যানের এই অভাবের কারণে সরকারের নীতিনির্ধারণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং বিশেষ সেবা থেকে তারা অনেক সময় বঞ্চিত থেকে যান।
বর্তমানে দেশে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দোভাষী, পথপ্রদর্শক এবং যোগাযোগ সহায়তাকারীর সংখ্যাও অত্যন্ত সীমিত। এর ফলে অনেক বধির-অন্ধ ব্যক্তি শিক্ষা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার মতো মৌলিক অধিকার থেকে পিছিয়ে পড়ছেন। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় সচেতনতার অভাবে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবন্ধী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বধির-অন্ধ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন