জুলাই ৩০, ২০২৬, ০২:২২ পিএম
জীবনের প্রথম দুই বছরে শিশুদের কম চিনি খাওয়ানো হলে ভবিষ্যতে তাদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো থাকতে পারে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, যেসব শিশু দুই বছর বয়সের আগ পর্যন্ত তুলনামূলক কম চিনি গ্রহণ করেছে, তাদের পরবর্তী জীবনে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। তবে এটি সরাসরি কারণ-ফল প্রমাণ না করলেও সুষম খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব জোরালো করে।
যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী একটি ঐতিহাসিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। সে সময় দেশটিতে চিনির রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার পর মানুষের খাদ্যতালিকায় হঠাৎ করেই চিনির পরিমাণ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। গবেষকরা দেখতে পান, যারা চিনির রেশনিং চলাকালে বড় হয়েছেন, তাদের মধ্যে পরবর্তীকালে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় তেইশ শতাংশ কম ছিল।
ইউকে বায়োব্যাংক প্রকল্পে অংশ নেওয়া প্রায় পঁয়ষট্টি হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকরা। ১৯৫৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যে চিনির রেশনিং শেষ হওয়ার পর একজন মানুষের দৈনিক গড় চিনি গ্রহণ প্রায় একচল্লিশ গ্রাম থেকে বেড়ে আশি গ্রামে পৌঁছেছিল। আগের গবেষণাগুলোতে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেলেও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে এই প্রথম এমন দীর্ঘমেয়াদী তথ্য সামনে এল।
গবেষক জিয়াঝেন ঝেং জানান, জীবনের একেবারে শুরুর দিকে চিনি সীমিত রাখলে তা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এই গবেষণার ফলাফল নিউরোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।তবে বিশেষজ্ঞরা এই ফলাফলের কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন।
কোক্রেনের গবেষক র্যাচেল রিচার্ডসন বলেন, এটি কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নয় যে শৈশবে বেশি চিনি খাওয়াই সরাসরি ডিমেনশিয়ার কারণ। কারণ এই তথ্যের ভিত্তি প্রায় আশি বছর আগের পরিস্থিতি, যা বর্তমান সময়ের শিশুদের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য নাও হতে পারে। আলঝেইমার্স রিসার্চ ইউকের গবেষক ডা. সারা রদ্রিগেজও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে এটি একটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন