শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,
লাইফস্টাইল টিপস

বিছানা গুছানোর পরেও শোবার ঘর অপরিচ্ছন্ন দেখানোর প্রধান কারণগুলো

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

বিছানা গুছানোর পরেও শোবার ঘর অপরিচ্ছন্ন দেখানোর প্রধান কারণগুলো

দামি আসবাব, আধুনিক আলোকসজ্জা কিংবা শৌখিন গালিচা থাকলেই ঘর সুন্দর হয়ে ওঠে না। অন্দরসজ্জার আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে পরিচ্ছন্নতা ও গোছানো পরিবেশে। বিছানায় সুন্দর চাদর পাতা, ড্রেসিং টেবিলে সাজানো প্রসাধনী কিংবা খাটের পাশে রাখা টেবিল ল্যাম্প ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়। কিন্তু এসবের ওপর ধুলার স্তর জমলে কিংবা জিনিসপত্র এলোমেলো হয়ে থাকলে ঘরের সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়।

ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন ঘরের প্রতিটি কোণ পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। সকালে বিছানা গুছিয়ে রাখা, মেঝে মোছা আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জায়গামতো রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে পরিচ্ছন্নতার কাজ। অথচ শোবার ঘরের এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ধুলা-ময়লা জমতে পারে। তাই সপ্তাহে এক দিন মাত্র আধা ঘণ্টা সময় বের করে নিলেই ঘর পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি রাখার কাজে অনেকটাই সুবিধা হবে।

শোবার ঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিছানা। প্রতিদিন চাদর ঝেড়ে বিছানা গুছিয়ে রাখলেও শুধু তাতেই পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে না। ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ ও ধুলা বিছানার চাদর এবং বালিশের কভারে জমতে পারে। তাই নিয়মিত এগুলো ধুয়ে পরিষ্কার করা জরুরি। সপ্তাহে অন্তত একবার বিছানার চাদর ও বালিশের কভার বদলে পরিষ্কারগুলো ব্যবহার করুন। তোশকের ওপর জমে থাকা ধুলাও ঝেড়ে ফেলুন। সম্ভব হলে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে গদি পরিষ্কার করতে পারেন। বিশেষ করে যাদের ধুলার কারণে অ্যালার্জি বা হাঁপানির সমস্যা বাড়ে, তাদের ঘরের ধুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

প্রসাধনী, চিরুনি, চুল বাঁধার সরঞ্জাম ও নানা ধরনের ছোটখাটো জিনিসের ভিড়ে ড্রেসিং টেবিল সহজেই অগোছালো হয়ে পড়ে। তাই সপ্তাহে এক দিন টেবিলের ওপর রাখা জিনিসগুলো সরিয়ে নরম পরিষ্কার কাপড় দিয়ে পুরো জায়গাটি মুছে নিন। প্রসাধনীগুলো আলাদা বাক্স বা ট্রেতে সাজিয়ে রাখুন। মেকআপ ব্রাশ ও স্পঞ্জ ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী নিয়মিত পরিষ্কার করে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। এতে একদিকে যেমন টেবিল গোছানো থাকবে, অন্যদিকে প্রয়োজনের সময় জিনিস খুঁজে পেতেও সুবিধা হবে।

প্রতিদিন ঘর মোছার সময় অনেকেই খাটের পাশ, টেবিলের নিচ কিংবা ঘরের কোণগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করতে পারেন না। অথচ এসব জায়গায় সহজেই ধুলা জমে। সপ্তাহে এক দিন হালকা আসবাব সরিয়ে মেঝের প্রতিটি অংশ পরিষ্কার করুন। ঘরের কোণে জমে থাকা ধুলো এবং আসবাবের ওপরের ঝুলও মুছে ফেলুন। ভারী আসবাব একা সরানোর চেষ্টা করবেন না। প্রয়োজনে অন্য কারও সাহায্য নিন। নিয়মিত এভাবে পরিষ্কার করলে ঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সহজ হবে।

খাটের পাশের টেবিলে রাখা ঘড়ি, টেবিল ল্যাম্প, বই কিংবা সাজসজ্জার সামগ্রীর ওপর ধুলো জমতে পারে। সপ্তাহে একবার এগুলো পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিন। জলের বোতল ও গ্লাস নিয়মিত ধুয়ে শুকিয়ে যথাস্থানে রাখুন। ছোট একটি ট্রে ব্যবহার করলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার সমস্যা কমবে।

প্রতিদিন একইভাবে সাজানো ঘর দেখতে একঘেয়ে লাগতেই পারে। তাই মাঝেমধ্যে দেওয়ালে ঝোলানো ছবি, ছোট শোপিস কিংবা টেবিলের সাজসজ্জার জিনিসগুলো একটু অন্যভাবে সাজিয়ে দেখতে পারেন। পুরোনো কোনো জিনিস সরিয়ে নতুন কিছু যোগ করলেও ঘরের চেহারায় পরিবর্তন আসবে। তবে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে না রেখে পরিমিত সাজসজ্জায় গুরুত্ব দিন। ঘর সুন্দর রাখতে প্রতিদিন অনেকটা সময় ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত ছোটখাটো কাজের পাশাপাশি সপ্তাহে আধ ঘণ্টা সময় নিয়ে এই জায়গাগুলো পরিষ্কার করলেই শোয়ার ঘর থাকবে অনেক বেশি গোছানো, পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক।