অক্টোবর ২১, ২০২৫, ০৮:২৫ পিএম
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। সময়মতো এটি নিয়ন্ত্রণ না করলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং কিডনি জটিলতার মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই, চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, আমাদের হাতের কাছেই এমন কিছু প্রাকৃতিক পানীয় রয়েছে, যা নিয়মিত সেবনে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
এই তালিকায় প্রথমেই আসে সহজলভ্য লেবু পানি। সকালে হালকা গরম পানিতে এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে তা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা রক্তনালিকে সুস্থ রাখে এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা হ্রাস করে।
উচ্চ রক্তচাপ কমানোর আরেকটি অত্যন্ত কার্যকরী পানীয় হলো বিটের রস। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, বিটের রসে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট রক্তনালিকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে, ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় নেমে আসে। সকালে খালি পেটে এক গ্লাস বিটের রস খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।
একইভাবে, ডাবের পানি শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণভাবে কাজ করে। এতে থাকা উচ্চ পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। শরীরচর্চার পরে বা দিনের যেকোনো সময় এক গ্লাস ডাবের পানি পান করলে তা শুধু শরীরকে সতেজই করে না, বরং হৃদযন্ত্রের সুস্থতাও নিশ্চিত করে।দৈনন্দিন জীবনে দুধ ও চিনি মেশানো চায়ের পরিবর্তে গ্রিন টি পান করাও একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। গ্রিন টি-তে থাকা ক্যাটেচিন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্তনালির গঠন মজবুত করতে এবং হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
দিনে দুই থেকে তিন কাপ গ্রিন টি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।তবে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। কিন্তু সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মেনে চললে ওষুধের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন