অক্টোবর ২৯, ২০২৫, ১১:০১ পিএম
আমাদের রান্নাঘরের একটি অপরিহার্য উপাদান হলো ঘি। গরম ভাতে একটু ঘি যেমন খাবারের স্বাদ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, তেমনি পরোটা ভাজা হোক বা হালুয়া-খিচুড়ি রান্না – ঘি যোগ করে এক অনন্য মাত্রা। শুধু স্বাদ বৃদ্ধিতেই নয়, এই দুগ্ধজাত উপাদানটির রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগুণও। প্রাকৃতিক পুষ্টি ও ভিটামিনে ভরপুর ঘি ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি জুগিয়ে আর্দ্র ও কোমল করে তোলে। বিশেষ করে শীতকালে যখন ত্বক ও ঠোঁট ফেটে যায়, তখন সামান্য ঘি ময়েশ্চারাইজারের মতো কাজ করে। এটি ত্বকের দাগছোপ দূর করে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতেও সহায়ক।
ঘিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং উপকারী ফ্যাট। ঘি যত খাঁটি হয়, তার উপকারিতাও তত বেশি পাওয়া যায়। আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরনের ঘি বেশি প্রচলিত – গরুর দুধ থেকে তৈরি ঘি এবং মহিষের দুধ থেকে তৈরি ঘি। অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন, বিশেষ করে ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে কোনটি বেশি উপকারী।গরুর দুধ থেকে তৈরি ঘি সাধারণত হালকা সোনালী রঙের হয় এবং এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি ও ভিটামিন ই প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বককে ফ্রি-র্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে এবং বয়সের ছাপ পড়তে বাধা দেয়। মহিষের দুধের ঘিয়ের তুলনায় গরুর ঘিতে ফ্যাটের পরিমাণ কিছুটা কম থাকে। তাই এটি ত্বকে লাগালে বেশ হালকা অনুভূত হয়, সহজে ত্বকের সঙ্গে মিশে যায় এবং অস্বস্তি কম হয়। যাদের ত্বক শুষ্ক, চামড়া ওঠে বা এগজিমার মতো সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য গরুর দুধের ঘি খুবই উপকারী হতে পারে।
অন্যদিকে, মহিষের দুধ থেকে তৈরি ঘি সাধারণত সাদাটে রঙের এবং গরুর দুধের ঘিয়ের চেয়ে বেশ ঘন হয়। এতে ক্রিমের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি অত্যন্ত শুষ্ক ত্বকের জন্য গভীর ময়েশ্চারাইজার হিসেবে দারুণ কাজ করে। তবে এতে ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, ফলে ত্বকে লাগালে এটি কিছুটা ভারী মনে হতে পারে এবং অনেকের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য মহিষের দুধের ঘি মোটেও উপযুক্ত নয়।
কারণ এর ভারী গঠন লোমকূপ বন্ধ করে দিয়ে ব্রণের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও মহিষের ঘিতে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস ত্বকে প্রাকৃতিক জেল্লা আনতে সাহায্য করে।তাহলে ত্বকের যত্নে কোন ঘি বেশি ভালো? সার্বিক বিবেচনায়, ত্বকের যত্নে গরুর দুধের ঘি তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ এবং উপযোগী। এর হালকা গঠন ত্বকে সহজে শোষিত হয় এবং প্রায় সব ধরনের ত্বকের জন্যই এটি মানানসই।
অন্যদিকে, মহিষের দুধের ঘি ভারী হওয়ায় তা তৈলাক্ত, ব্রণপ্রবণ বা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে কারও ত্বক যদি অতিরিক্ত শুষ্ক হয়, সেক্ষেত্রে তারা মহিষের ঘি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। শীতকালে ত্বকের স্বাভাবিক পুষ্টি, আর্দ্রতা ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে প্রতিদিন অল্প পরিমাণে গরুর দুধের খাঁটি ঘি ব্যবহার করা যেতে পারে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন