অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ০৯:১০ পিএম
আধুনিক জীবনযাত্রায় ঘাড় ও কাঁধের ব্যথা একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যারা সারা দিন ডেস্কে বসে কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করেন, কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাড় নিচু করে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে এই ব্যথা প্রায়শই স্থায়ী সমস্যায় রূপ নেয়। অনেক সময় ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে, ঘাড় সামান্য ঘোরাতে গেলেই তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হয়।
চিকিৎসকদের মতে, এই ব্যথার প্রধান কারণ হলো দীর্ঘক্ষণ এক অবস্থায় বসে থাকা, শরীরের ভুল ভঙ্গি (পোসচার), নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব এবং ঘুমের সময় ঘাড়ের ভুল অবস্থান। এসব কারণে ঘাড়ের পেশি ও লিগামেন্টে অতিরিক্ত টান পড়ে এবং প্রদাহ তৈরি হয়। ফলস্বরূপ ঘাড় শক্ত হয়ে যায় এবং সেই ব্যথা ধীরে ধীরে কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় এটি ‘সার্ভাইক্যাল স্পন্ডিলসিস’-এর মতো জটিল রোগের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। এছাড়া হঠাৎ ভারী জিনিস তোলা বা খেলাধুলার সময় আঘাত থেকেও এই ব্যথা হতে পারে।
তবে আশার কথা হলো, এই ধরনের ব্যথা শুরুতেই ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে কিছু সহজ দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তন করে এবং ঘরোয়া উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ব্যথা কমানোর জন্য চিকিৎসকরা প্রায়ই পর্যায়ক্রমে গরম ও ঠাণ্ডা সেঁক দেওয়ার পরামর্শ দেন। একটি পরিষ্কার রুমালে কয়েকটি বরফের টুকরো মুড়ে নিয়ে ব্যথার জায়গায় ১৫ মিনিট আলতো করে চেপে রাখলে (ঠাণ্ডা সেঁক) প্রদাহ কমে। এর ঠিক পরপরই ১৫ মিনিট গরম সেঁক (হট ওয়াটার ব্যাগ বা গরম কাপড়ের ভাপ) দিলে শক্ত হয়ে থাকা পেশি শিথিল হয়।
ঘুমানোর সময় বালিশের অবস্থান ঠিক করা অত্যন্ত জরুরি। কাঁধের নিচে আরামদায়ক এবং সঠিক উচ্চতার বালিশ ব্যবহার করলে ঘুমের সময় ঘাড়ে ভুল চাপ পড়ে না, যা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ল্যাভেন্ডার বা পেপারমিন্টের মতো এসেনশিয়াল অয়েল বা ব্যথানাশক মলম দিয়ে ঘাড় ও কাঁধে হালকা হাতে মালিশ করলে পেশি শিথিল হয় এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ফলে ব্যথা কমে।এর পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম এই ব্যথা নিরাময়ে জাদুর মতো কাজ করে। যেমন, ‘বালাসন’ নামে পরিচিত যোগাসনটি বেশ কার্যকর।
এই আসনটি করতে হাঁটু মুড়ে গোড়ালির ওপর বসুন, এরপর সামনের দিকে ঝুঁকে বুক উরুতে ঠেকান এবং মাথা মেঝেতে রাখুন। হাত দুটি সামনের দিকে সোজা করে প্রসারিত করে রাখলে ঘাড় ও পিঠের পেশিতে আরাম অনুভূত হয়। এছাড়া, কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝে ঘাড় আলতো করে ডানে-বামে ঘোরানো বা ঘড়ির কাঁটার দিকে ও তার বিপরীতে ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরানোর অনুশীলন করলে পেশিগুলো নমনীয় থাকে এবং ব্যথা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। দীর্ঘ সময় এক দিকে তাকিয়ে কাজ না করে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়াও জরুরি।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন