নভেম্বর ২, ২০২৫, ১০:৫৬ এএম
অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে আজকাল তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা বাড়ছে। এর মধ্যে থাইরয়েড ও স্থূলতার মতো রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের বিপাকের গতি ও হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে আয়োডিন নামের এক ক্ষুদ্র কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ভূমিকা অপরিসীম।
থাইরয়েড গ্রন্থি এই আয়োডিনের সাহায্যেই এমন হরমোন তৈরি করে, যা শরীরের শক্তি উৎপাদন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হৃদস্পন্দন এবং সঠিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। যখন শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি দেখা দেয়, তখন থাইরয়েড গ্রন্থি সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। এর ফলে হাইপোথাইরয়েডিজম, অতিরিক্ত ক্লান্তি, হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি এবং বিষণ্ণতার মতো নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শরীরে আয়োডিনের চাহিদা মেটানোর সবচেয়ে সহজ ও পরিচিত উৎস হলো আয়োডিনযুক্ত লবণ। কিন্তু আজকাল উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে অনেকেই খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দেন বা লবণ খাওয়া বাদ দেন। এর ফলেই শরীরে অজান্তে আয়োডিনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা থাইরয়েডের সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলছে।
তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, লবণ ছাড়াও প্রাকৃতিক অনেক খাবার রয়েছে যা এই খনিজটির ঘাটতি কার্যকরভাবে পূরণ করতে পারে।দুগ্ধজাত পণ্য আয়োডিনের অন্যতম ভালো উৎস। দুধ, দই এবং চিজে প্রাকৃতিকভাবেই আয়োডিন পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে লো-ফ্যাট বা অর্গানিক দুধ বেছে নেওয়া যেতে পারে।
সামুদ্রিক মাছ আয়োডিনের একটি চমৎকার উৎস। কড, টুনা, চিংড়ি, এমনকি আমাদের দেশীয় ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছে প্রচুর আয়োডিন থাকে। পাশাপাশি এসব মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদযন্ত্র ভালো রাখতেও সাহায্য করে।
ডিম আয়োডিনের আরও একটি সহজলভ্য উৎস। একটি মাঝারি আকারের ডিমে, বিশেষ করে এর কুসুমে, দৈনন্দিন চাহিদার একটি ভালো অংশ আয়োডিন পাওয়া যায়। এতে থাকা প্রোটিন ও ভিটামিন ডি শরীরের শক্তি ও বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতেও সহায়ক।
আয়োডিনের সবচেয়ে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে গণ্য করা হয় সামুদ্রিক শৈবাল বা সি-উইডকে। কেল্প, নরি বা ওয়াকামে জাতীয় শৈবালে প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন থাকে। সপ্তাহে এক বা দুইবার অল্প পরিমাণে সি-উইড খেলেই দৈনিক আয়োডিনের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। তবে এটি অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়, কারণ অতিরিক্ত আয়োডিনও থাইরয়েডের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
আর যদি খাদ্যতালিকায় প্রাকৃতিক আয়োডিনের উৎস খুব কম থাকে, তবে রান্নার শেষে সামান্য পরিমাণে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। এক চিমটে লবণই দৈনিক চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। তবে অবশ্যই অতিরিক্ত লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।আধুনিক জীবনযাত্রায় থাইরয়েড সমস্যা থেকে দূরে থাকতে হলে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ও পরিমিত আয়োডিন থাকা অত্যন্ত জরুরি। খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই শরীরের হরমোনের ভারসাম্য ও প্রাণশক্তি বজায় রাখা সম্ভব।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন