অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ০৮:৫৩ পিএম
সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বর্তমানে একটি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্তের কারণে দলটি রীতিমতো কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছে এবং তাদের পাশে এখন কার্যত কেউ নেই। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক দীর্ঘ বিশ্লেষণে তিনি এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এসব কথা বলেন।
মোস্তফা ফিরোজের মতে, এনসিপি নিজে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে পারেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলটি এখন কী করবে; তারা কি আলাদা জোট করে নির্বাচনে যাবে? তিনি মনে করেন, সেই সক্ষমতাও তাদের নেই এবং তাতে কোনো লাভও হবে না। ফলে এনসিপিকে এখন জোট গঠনের জন্য কখনো বিএনপি আবার কখনো জামায়াতের মতো দলগুলোর দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। দল গঠনের আগে বা শুরুর দিকে তাদের যে সাংঘাতিক সম্ভাবনা বা দেশব্যাপী রমরমা অবস্থা দেখা গিয়েছিল, তা ধীরে ধীরে স্থিমিত হয়ে গেছে।
এই সাংবাদিক আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছুটা আনুকূল্য ও সহানুভূতি থাকায় এনসিপিকে মোটামুটি বিএনপি-জামায়াতের সমান মর্যাদায় দেখা হয়। এমনকি এনসিপির গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনও ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ফয়সালা দেয়নি। তা সত্ত্বেও, ১১ জুলাই সনদ স্বাক্ষর না করা, বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ এবং জামায়াতের সঙ্গে সাম্প্রতিক মতবিরোধ—সবকিছু মিলিয়ে এই চাপ এখন বেশ স্পষ্ট।
মোস্তফা ফিরোজ মনে করেন, এসব কারণে দলের ভেতরে খুব শক্ত কোনো ঐক্য আছে, তা দৃঢ়ভাবে বলা যাবে না। যদিও আপাতত সবাই এক জায়গায় আছেন, তবে এই একত্রিত অবস্থা কতদিন টিকবে বা সেখানে ফাটল ধরবে না, এমন কোনো নিশ্চয়তাও নেই।মোস্তফা ফিরোজ তার বিশ্লেষণে দাবি করেন, এনসিপি নেতাদের মধ্যে ধীরে ধীরে এক ধরনের হতাশা দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
এর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে কেউ কেউ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন, কেউ দল পরিবর্তন করছেন, আবার কেউ কেউ দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে কোনোমতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন। শুধু ভেতরের চাপই নয়, বাইরের চাপও ক্রমাগত বাড়ছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে খবর আসছে যে, এনসিপির নেতাকর্মীরা দলে দলে অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে আগামী দিনে কেন্দ্রীয়ভাবে এনসিপির ঐক্য কতটা টিকবে, সেটাই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এবং এক কঠিন লড়াই বলে তিনি মনে করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন