অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ১১:৩৯ পিএম
সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ মন্তব্য করেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল দিন দিন বেগবান হচ্ছে এবং দলটির প্রায় ৩ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করার পরও পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং আওয়ামী-বিরোধী দলগুলোর অনৈক্যের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) মোস্তফা ফিরোজ তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ‘ভয়েস বাংলা’-তে দেওয়া এক ভিডিও বিশ্লেষণে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ডিএমপির তথ্যমতে, গত ১০ মাসে আওয়ামী লীগের ৩ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেও আওয়ামী লীগকে থামানো যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের মিছিল হয়েছে। মোস্তফা ফিরোজ বলেন, 'যেভাবে আগে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিছিল করত, ঠিক ওই ভাবেই আওয়ামী লীগ ঝটিকা মিছিল করছে। গলি থেকে বের হয়ে মেইন রোডে ওঠেই তারা উধাও হয়ে যাচ্ছে।' তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই ঝটিকা মিছিল একসময় বড় গণমিছিলে রূপ নিতে পারে।
মোস্তফা ফিরোজের মতে, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মনে করছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান যেভাবে সফল হয়েছে, সেভাবে লাগাতার মিছিল করতে করতে হয়তো আগামী ছয় মাসের মধ্যে পরিস্থিতি পাল্টে ফেলা সম্ভব এবং তাদের নেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসতে পারবেন।এই পরিস্থিতির কারণ বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, 'সরকারের ভেতরে দুর্বলতা যত বাড়বে, আওয়ামী বিরোধীদের মধ্যে অনৈক্য যত বাড়বে; তত বেশি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম জোরদার হবে।' তিনি আরও বলেন, 'সবচেয়ে বড় দিক হলো- আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল বড় হচ্ছে। তার মানে সরকারের জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে; আওয়ামী বিরোধী শক্তিগুলোর গ্রহণযোগ্যতা কমে যাচ্ছে।'
অন্তর্বর্তী সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে মোস্তফা ফিরোজ বলেন, 'এই মুহুর্তে আওয়ামী বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই, বিরোধীতা চরমে, মুখোমুখি অবস্থা। অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। চাঁদাবাজি-রাহাজানি বেড়েছে।'এই ব্যর্থতার ফলে জনমনে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এই কারণে সবার ভেতরে একধরনের মনোভাব জন্মেছে যে, তাহলে তো আওয়ামী লীগের আমলই ভালো ছিল। আওয়ামী লীগের একচেটিয়া শাসনামলে তাও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ছিল, এখন তো কোনো কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ নেই। এই ধরনের চিন্তা বাড়ছে। ফলে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে।'
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরে মোস্তফা ফিরোজ বলেন, আওয়ামী লীগকে যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়, তবে অনেকেই মনে করেন তারা সরকার গঠন করার মতো আসন পাবেন, অথবা অন্তত একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হবেন। তিনি বলেন, 'এখন অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপি, জামায়াত হয়তো সেই ঝুঁকিটা নেবে না। সেই ঝুঁকি যদি নিতো তাহলে তারা দেখতে পারতো তাদের জনপ্রিয়তার পারদ এক বছরের মধ্যে নিচের দিকে নেমে আসছে। এটা আওয়ামী বিরোধী রাজনীতির শোচনীয় ব্যর্থতা। মানুষ হতাশ। মানুষ সামনের নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান। এরকম পরিস্থিতিতে পতিত স্বৈরাচারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।'



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন