রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়তে প্রস্তুত ফ্রান্স

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৬, ২০২৫, ১১:১৪ এএম

বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়তে প্রস্তুত ফ্রান্স

নবনিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে জানিয়েছেন, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশের স্বার্থ ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত সেরে-শারলে, যিনি চলতি মাসের শুরুর দিকে দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি বলেন, ঐতিহাসিক নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান করছে এবং এই মুহূর্তটি ফ্রান্স ও বাংলাদেশের অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত সময়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফ্রান্সের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বাংলাদেশের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রায় ১৫ লাখ ফরাসি নাগরিক বসবাস করেন, যা ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। রাষ্ট্রদূত মনে করেন, উন্মুক্ততা ও অবাধ চলাচলের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ফ্রান্স আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার বড় সুযোগ দেখছে।রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন হবে।

তিনি বলেন, জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে। তিনি ইউরোপের কিছু দেশের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশকে সতর্ক করেন এবং বলেন, ইউরোপের কিছু দেশ নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে সংগঠিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা ও সামাজিক বিভাজনের চেষ্টার মুখোমুখি হয়েছে; বাংলাদেশকেও এমন ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হতে পারে।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেন যে, ফ্রান্স বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) উত্তরণ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা জোরদার করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, 'এই উত্তরণ যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে ফ্রান্স সহায়তা দিতে প্রস্তুত।'

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ফ্রান্সকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গৃহীত প্রস্তুতির বিষয়ে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। অধ্যাপক ইউনূস গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় পদক্ষেপ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নসহ অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে ফ্রান্সের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।