সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

‘ঐতিহাসিক জানাজা, এত বড় সমাগম আর কখনো দেখিনি’

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ০৩:৪৬ পিএম

‘ঐতিহাসিক জানাজা, এত বড় সমাগম আর কখনো দেখিনি’

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ ও সংসদ ভবন এলাকায় যে পরিমাণ মানুষের সমাগম ঘটেছে তা রীতিমতো নজিরবিহীন। জানাজায় অংশ নিতে আসা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবীরা এই সমাবেশকে একটি ‘ঐতিহাসিক জানাজা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অনেক প্রবীণ নাগরিক মন্তব্য করেছেন।

ঢাকা শহরে একক কোনো ব্যক্তির জানাজায় এত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তারা এর আগে আর কখনো দেখেননি। শনিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে হাদির মরদেহ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছানোর আগে থেকেই পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।

জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত স্থানের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছাত্র-জনতা পাশের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন। ফার্মগেট, বিজয় সরণি ও আসাদগেট পর্যন্ত বিস্তৃত হয় মানুষের এই দীর্ঘ সারি। জানাজায় অংশ নিতে আসা এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন এখানে আসার পর যা দেখলাম তা অবিশ্বাস্য। লাখ লাখ মানুষের এই ভালোবাসা প্রমাণ করে হাদি মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীর জায়গা করে নিয়েছিলেন। এটি শুধু একটি জানাজা নয় বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। অনেকের মুখেই শোনা গেছে যে হাদির এই বিদায় যাত্রা ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জানাজা শুরুর আগেই অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় শোকের আবহে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় অংশ নিতে অনেকে তাদের সন্তানদের নিয়েও এসেছিলেন। মানুষের মুখে তখন কেবল হাদির নাম এবং ‘তুমি কে, আমি কে? হাদি, হাদি; আমরা সবাই হাদি হবো’ এমন আবেগঘন স্লোগান ধ্বনিত হচ্ছিল। শোকের এই মাতম পুরো সংসদ ভবন এলাকাকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যায়।

মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন এলাকায় মানুষের চাপে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও বিশাল এই জনসমুদ্র সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। তবে উপস্থিত জনতা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে জানাজায় শরিক হন। জানাজা শেষে অনেকেই অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেছেন হাদির রক্ত বৃথা যেতে পারে না। এই ঐতিহাসিক সমাগমই বলে দিচ্ছে জাতি একজন প্রকৃত বীরকে হারিয়েছে। জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর হাদির মরদেহ দাফনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে কবির পাশেই তার শেষ শয্যা রচিত হয়েছে।