শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে জরিমানা করবে পুলিশ, পুলিশ করলে কী হবে?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে জরিমানা করবে পুলিশ, পুলিশ করলে কী হবে?

সারাদেশে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক ও ধূমপান নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে যেখানে পাবলিক প্লেসে ধূমপানের দায়ে জরিমানার পরিমাণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আগে এই অপরাধের জন্য জরিমানা ৩০০ টাকা থাকলেও নতুন আইনে তা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে তামাকজাত পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের তামাকজাত পণ্য বিক্রি করা যাবে না। যদি কেউ এই নির্দেশ অমান্য করে তবে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে।

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকের কারণে এক লক্ষ তিন হাজারের বেশি মানুষ অকাল মৃত্যুর শিকার হয়। জনস্বাস্থ্যের এই বড় ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার বিদ্যমান আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করে একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করেছে। নতুন এই অধ্যাদেশে ই-সিগারেট এবং আধুনিক সব তামাকজাত পণ্য বা নিকোটিন পাউচ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি এবং বিক্রি এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া প্যাকেটের গায়ে সতর্কবার্তার পরিমাণ ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে।আইন প্রয়োগের বিষয়ে প্রেস সচিব স্পষ্ট জানান যে এই আইন বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ। তবে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে যদি পুলিশ নিজেই পাবলিক প্লেসে ধূমপান করে তবে কী হবে। এই বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন আইন সবার জন্য সমান।

যিনি আইন রক্ষা করবেন এবং যিনি আইন ভাঙবেন উভয়েই সমান দায়বদ্ধ। যদি কোনো পুলিশ সদস্য জনসমাগমস্থলে ধূমপান করেন তবে তাকেও সাধারণ নাগরিকের মতো আইনের আওতায় আনা হবে এবং জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মের মধ্যে তামাকের বিস্তার রোধ করা এবং একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী তামাক কোম্পানিগুলোর প্রচারণার সুযোগ আরও কমিয়ে আনা হয়েছে। কোনো কোম্পানি যদি আইন লঙ্ঘন করে তবে তাদের লাইসেন্স বাতিল এবং মালামাল জব্দের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রেস সচিব মনে করেন এই আইনটি কেবল কাগজের কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঠ পর্যায়ে এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করবে। জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।