শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের দাবিতে হাইকোর্টের রুল জারি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২৯, ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের দাবিতে হাইকোর্টের রুল জারি

দেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বিবেচনায় ই-সিগারেটের সর্বাত্মক ব্যবহার ও সব ধরনের বাজারজাতকরণ কেন স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষকে এই রুলের যথাযথ জবাব দেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বিশেষ দ্বৈত বেঞ্চ এই জনকল্যাণমূলক আদেশ প্রদান করেন।

আদেশের অনুলিপি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিবাদী পক্ষের কাছে পাঠানোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে স্বাস্থ্য সচিব, শ্রম সচিব, অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং আইন সচিবসহ মোট নয়জন সংশ্লিষ্ট বিবাদীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রুলের আইনি ব্যাখ্যা দিতে হবে। আদালতে জনস্বার্থে দায়ের করা এই রিট আবেদনের পক্ষে দীর্ঘ শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী শামীম হায়দার পাটোয়ারি এবং ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ। 

শুনানি শেষে আইনজীবীরা সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যে ই-সিগারেটকে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি অত্যন্ত মারাত্মক ও ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান প্রচলিত আইনি কাঠামোয় এই ধরনের ক্ষতিকর ই-সিগারেট বিক্রি বা ব্যবহারের কোনো বৈধ অনুমোদন বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই।

আইনজীবীরা আরও অভিযোগ করেন যে কেবল কিছু বাড়তি রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে দেশে এই ক্ষতিকর পণ্যটি নতুন করে বাজারজাতকরণের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছিল, যা দেশের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের মূল ভাবধারার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এর আগে বিগত ১৭ জুন জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে সাইফুদ্দিন আহমেদ, এ কে এম মাসুদ এবং হেলাল নামের তিন সচেতন ব্যক্তি হাইকোর্টে এই যৌথ রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন। তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং তরুণ প্রজন্মকে এই মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করতে আদালতের এই সাময়িক রুল একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।