জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তুতি জোরদার করছে। এরই অংশ হিসেবে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা ও আচরণবিধি নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বুধবার সকালে এনজিও ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে নাগরিক পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে পর্যবেক্ষকদের অবশ্যই আবেগের বশবর্তী না হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিশেষ করে অল্প বয়সী পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে আবেগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ নাগরিক পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন কমিশনের ‘তৃতীয় চক্ষু’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান যে এবারের নির্বাচনের জন্য পর্যবেক্ষকদের ন্যূনতম বয়সসীমা ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তরুণ পর্যবেক্ষকদের উদ্দীপনা থাকলেও নির্বাচনী মাঠে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হলে আবেগ সংবরণ করাটা পেশাদারিত্বের অংশ। বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে যেসব নাগরিক পর্যবেক্ষক সংস্থা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তাদের এবার কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। কমিশনের এই কঠোর অবস্থানের কারণে এবার যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৮১টি সংস্থাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচনী ব্যবস্থায় আইনি সংস্কারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে এখনো কিছু কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে যা সামনের দিনগুলোতে সমাধান করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী ব্যবস্থা কিছুটা পিছিয়ে থাকায় বর্তমান কমিশন এবং পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে পর্যবেক্ষকদের সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন নীতিমালার মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। কমিশনের প্রত্যাশা পর্যবেক্ষকরা তাদের নিরপেক্ষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন