শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মার্কিন ভিসার জন্য জামানত থেকে অব্যাহতি চাইবে ঢাকা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

মার্কিন ভিসার জন্য জামানত থেকে অব্যাহতি চাইবে ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরোপিত নতুন ভিসা বন্ড বা জামানতের শর্ত থেকে অব্যাহতি পেতে বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে জোরালো প্রচেষ্টা চালাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

উপদেষ্টা জানান যে যুক্তরাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি এককভাবে শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় বরং আরও অনেক দেশের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

বিশেষ করে অভিবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে মার্কিন প্রশাসনের উদ্বেগ থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন যে দীর্ঘদিনের অনিয়মিত অভিবাসন সমস্যা বর্তমানে একটি নীতিগত সংকটে রূপ নিয়েছে।

যদি যুক্তরাষ্ট্র কিছু দেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং সেখানে বাংলাদেশের নাম থাকে তবে সেটি খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে বিষয়টি বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অবশ্যই দুঃখজনক এবং কষ্টকর। অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই অনিয়মিত অভিবাসনের বিরোধিতা করে আসছে এবং এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করাই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান বলে তিনি মন্তব্য করেন। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষের মৃত্যু বা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় তিনি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করলেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের সময় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত জমা দিতে হতে পারে। গত বছরের আগস্টে প্রাথমিকভাবে ছয়টি দেশকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে আরও দেশ যুক্ত করা হয়। সবশেষ গত মঙ্গলবার বাংলাদেশসহ নতুন ২৫টি দেশকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নতুন শর্তগুলো আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে যা বাংলাদেশের ভ্রমণকারীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করবে।

সরকার এখন এই শর্ত শিথিল বা অব্যাহতি পাওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান যে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং এটি মার্কিন প্রশাসনকে বোঝানো হবে। বাংলাদেশ চায় বৈধ পথে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা যেন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার না হন। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের পাশাপাশি দেশের ভেতরেও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।