শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নির্বাচনের পর যে তিন কাজ করবেন ড. ইউনূস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

নির্বাচনের পর যে তিন কাজ করবেন ড. ইউনূস

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবে। বর্তমানে একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ সফররত আকি আবের সঙ্গে এই বৈঠকে ড. ইউনূস তার ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় ভবিষ্যতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

বিশেষ করে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি কোন বিষয়গুলোতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন তা নিয়ে আলোকপাত করেন। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকালে আকি আবে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তার নির্বাচন-পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. ইউনূস তিনটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা জানান। তিনি বলেন যে নির্বাচনের পর তার প্রথম লক্ষ্য হবে দেশের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন করা। বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা যেন আরও সহজলভ্য হয় এবং প্রবাসীরা যেন ডিজিটাল মাধ্যমে দেশে থাকা তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকি করতে পারেন সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। দ্বিতীয়ত ড. ইউনূস তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রমকে আগের মতোই বেগবান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তার মতে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই সৃজনশীল তরুণদের ওপর।

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমগুলো ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। সামাজিক ব্যবসা এবং পরিবেশ রক্ষায় তার দীর্ঘদিনের যে বৈশ্বিক পরিচিতি রয়েছে সেই অভিজ্ঞতায় তিনি বাংলাদেশকে এসডিজি অর্জনে এগিয়ে নিতে চান। বৈঠকে আকি আবে তার প্রয়াত স্বামী শিনজো আবের সাথে ড. ইউনূসের গভীর বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন এবং পারস্পরিক স্মৃতিচারণ করেন। এই সময় ড. ইউনূস আকি আবের সামাজিক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয় যে ড. ইউনূস আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে জাপান সফরে যাচ্ছেন। এই সফরে সামুদ্রিক গবেষণা ও ওশান রিসার্চসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে। নির্বাচনের পর ড. ইউনূসের এই তিনটি কর্মপরিকল্পনা মূলত তার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও উন্নয়নমূলক দর্শনেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এটি স্পষ্ট যে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব শেষেও তিনি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিজেকে সক্রিয় রাখতে চান।