জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তার দিক থেকে মোট ভোটকেন্দ্রের ৫৯ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির ১৯তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান তিনি।
উপদেষ্টা জানান যে নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে নিরাপত্তা বিবেচনায় বড় একটি অংশকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৮ হাজার ৭৮০টি এবং গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৪৮টি। সাধারণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৩৩টি। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বলতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রকেই বোঝানো হচ্ছে বলে তিনি ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করেন।
এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের পোশাকে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মাঠে থাকবেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ লাখ, পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব এবং বিমান বাহিনীর সদস্যরাও মোতায়েন থাকবেন। দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনের জন্য বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের কথা জানান উপদেষ্টা। তিনি আরও বলেন যে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আধুনিক সংযোজন হচ্ছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ–২০২৬’, যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করা হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভোটগ্রহণকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় থাকবেন। সরকার কোনো ধরনের অপতৎপরতা সহ্য করবে না এবং নির্বাচনকে স্বচ্ছ করতে সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন