রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের আবাসনের জন্য ১ কোটি টাকা বরাদ্দ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের আবাসনের জন্য ১ কোটি টাকা বরাদ্দ

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির পরিবারের আবাসনের জন্য এক কোটি টাকা বিশেষ অনুদান বরাদ্দ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাজধানীর লালমাটিয়ায় অবস্থিত সরকারি দোয়েল টাওয়ারে ১২১৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনা এবং সেটি সুসজ্জিত করার জন্য এই অর্থ ব্যয় করা হবে। 

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এই অর্থ বরাদ্দের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে যা শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আবাসিক ভবন খাতে চলতি অর্থবছরের জন্য যে ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল সেখান থেকেই এই এক কোটি টাকা খরচ করা হবে। 

তবে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেওয়ার আগে শরীফ ওসমান হাদির স্ত্রী ও সন্তানের পরিচয় যথাযথভাবে নিশ্চিত হতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস হাদির মৃত্যুর পরপরই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ঘোষণা করেছিলেন যে তার স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের সব দায়িত্ব রাষ্ট্র বহন করবে। বর্তমান এই বরাদ্দ সেই ঘোষণারই একটি আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন।

শরীফ ওসমান বিন হাদি জুলাই অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। তবে গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী গণসংযোগে বের হলে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাত আততায়ীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

হাদির এই অকাল মৃত্যু ছাত্র-জনতার মাঝে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপকে শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনরা। লালমাটিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শহীদ হাদির পরিবারের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করল যে জুলাই অভ্যুত্থানের বীরদের স্মৃতি ও তাদের পরিবারের পাশে রাষ্ট্র সবসময় সজাগ রয়েছে। এই অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে হাদির স্ত্রী ও সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবনযাত্রার সুরক্ষা অনেকটা নিশ্চিত হলো।