শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এবার মোবাইল নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন কার ইশারায়? প্রশ্ন ডাকসু ভিপির

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১১:২১ এএম

এবার মোবাইল নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন কার ইশারায়? প্রশ্ন ডাকসু ভিপির

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‍‍`নব্য ফ্যাসিজম‍‍` হিসেবে আখ্যায়িত করেন। 

তিনি প্রশ্ন তোলেন যে কার প্রভাবে এবং কার ইশারায় জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বিএনসিসি প্রত্যাহারের পর এই সিদ্ধান্তকে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন এই ছাত্রনেতা।

সাদিক কায়েম তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে ভোটকেন্দ্র এলাকায় মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার অর্থ হলো নাগরিকদের ডিজিটাল সুরক্ষা ও তথ্যের উৎস বন্ধ করে দেওয়া। এর ফলে কোনো মোজো সাংবাদিক বা সাধারণ নাগরিক ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ফুটেজ ধারণ করতে পারবেন না। 

তিনি মনে করেন নাগরিক সাংবাদিকতা বা সিটিজেন জার্নালিজম বন্ধ করার মাধ্যমেই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নষ্ট করার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের হাতে প্রমাণের কোনো সুযোগ না রাখা দেশের মানুষের ওপর এক ধরনের দমনপীড়ন বলে তিনি মন্তব্য করেন।ইসির এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে ডাকসু ভিপি বলেন যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য নয়।

16444 

দেশের তরুণ ও যুব সমাজকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে জুলাই বিপ্লবের চেতনা নিয়ে যারা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছে তাদের ভয় পাচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে নতুবা তরুণ প্রজন্ম চুপ করে বসে থাকবে না।

উল্লেখ্য যে গত রোববার রাতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় যেখানে জানানো হয়েছে যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন নির্ধারিত কিছু কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রিসাইডিং অফিসার এবং নির্দিষ্ট কিছু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য ছাড়া সাধারণ ভোটার বা সাংবাদিকদের এই সীমানার মধ্যে ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ইসির এই চিঠি ইতোমধ্যে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে যা এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।