রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জামায়াত আমীরকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন ও বিশেষ বার্তা

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০২:০৮ পিএম

জামায়াত আমীরকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন ও বিশেষ বার্তা

প্রধান উপদেষ্টার বার্তা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি জামায়াত আমীরকে এই শুভেচ্ছা জানান। প্রধান উপদেষ্টা তার বার্তায় উল্লেখ করেন যে নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনের ফলাফলকে অত্যন্ত শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। 

তিনি বিশেষ করে ডা. শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সংযমের প্রশংসা করেন। নির্বাচনের প্রচার থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত কর্মীদের প্রতি তার শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ড. ইউনূস মনে করেন। 

বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনকালে জামায়াতে ইসলামী যে গঠনমূলক সমর্থন ও পরামর্শ দিয়েছে তার জন্য তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে যেখানে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য একান্ত প্রয়োজন। 

ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন যে আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী সংসদে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে। তিনি বিশ্বাস করেন যে সংসদীয় বিতর্ক ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় দলটির সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে আরও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করবে। আসলে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা থাকা জরুরি। প্রধান উপদেষ্টা তার বার্তায় জাতীয় ঐক্যকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন এবং জামায়াত আমীরকে দেশ ও জাতির সেবায় তার মেধা ও প্রজ্ঞার স্বাক্ষর রাখার আহ্বান জানান। 

পরিশেষে তিনি ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। এই অভিনন্দন বার্তাটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। জামায়াতে ইসলামীর এই অর্জিত সাফল্য সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে বলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। ড. ইউনূস মনে করেন শক্তিশালী বিরোধী দলই সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে।