রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সংসদের উচ্চকক্ষ-নিম্নকক্ষ কী, কীভাবে পরিচালিত হবে?

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

সংসদের উচ্চকক্ষ-নিম্নকক্ষ কী, কীভাবে পরিচালিত হবে?

সংসদের নতুন কাঠামো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদের ওপর অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটের ফলাফল প্রকাশের পর বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভার পরিবর্তে এখন থেকে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় পদ্ধতিতে যেখানে থাকবে একটি নিম্নকক্ষ এবং একটি উচ্চকক্ষ। 

নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচিত সদস্য এবং সংরক্ষিত ৫০ জন নারী সদস্য নিয়ে গঠিত হবে সংসদের নিম্নকক্ষ। তবে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়াটি হবে কিছুটা ভিন্ন এবং তা প্রথম অধিবেশন শুরুর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। 

নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী সংসদের প্রথম ১৮০ দিন নিম্নকক্ষের সদস্যরা মূলত সংবিধান সংস্কারের গুরুদায়িত্ব পালন করবেন। এই সংস্কার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হার বা পিআর পদ্ধতিতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। 

এর ফলে ছোট দলগুলোও তাদের প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ অনুযায়ী সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে যা গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উচ্চকক্ষে বিশেষজ্ঞ ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও বিশেষ আইনি বিধান রাখার আলোচনা চলছে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও আসবে বড় ধরনের পরিবর্তন যেখানে যেকোনো সাধারণ বিল নিম্নকক্ষে পাসের পর তা উচ্চকক্ষের পর্যালোচনায় যাবে। তবে সংবিধান সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে নতুন নিয়মে নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংসদ পরিচালনার মূল দায়িত্বে থাকবেন স্পিকার এবং বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত এক বা একাধিক ডেপুটি স্পিকার যা সংসদীয় ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।

 কর আরোপ বা রাষ্ট্রীয় ব্যয় অনুমোদনের ক্ষেত্রেও দুই কক্ষের সমন্বয় ও আলোচনার সুযোগ থাকবে। একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন আহ্বানের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা নতুন কাঠামোতেও বজায় থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট এই ব্যবস্থা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে আরও নিবিড় ও নির্ভুল করবে কারণ প্রতিটি সিদ্ধান্ত এখন দুটি স্তরে যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে। মূলত জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবেই দেশের মানুষ গণভোটের মাধ্যমে এই নতুন পদ্ধতির পক্ষে তাদের রায় দিয়েছে। এখন দেখার বিষয় নতুন সরকার এই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কাঠামোকে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করে।