রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বইমেলা পিছিয়ে ঈদের পর নেওয়ার দাবি জানালেন প্রকাশকরা

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

বইমেলা পিছিয়ে ঈদের পর নেওয়ার দাবি জানালেন প্রকাশকরা

বইমেলা পেছানোর দাবি

আসন্ন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ স্থগিত করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশকরা। সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্পকে চরম ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি এবং জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। প্রকাশক ঐক্য নামক একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে পাঠানো এক খোলা চিঠিতে এই আকুল আবেদন জানানো হয় যেখানে দেশের প্রথম সারির প্রায় তিন শতাধিক মূলধারার প্রকাশক একাত্মতা পোষণ করেছেন। 

প্রকাশকরা তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারি মাসে মেলা শুরু করা হলে তা হবে সমগ্র প্রকাশনা শিল্পের জন্য এক ধরনের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। গত দেড় বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মুদ্রণ শিল্প বর্তমানে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। 

বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলে ছাপাখানাগুলো কেবল নির্বাচনী কাজেই ব্যস্ত ছিল ফলে নতুন সৃজনশীল বই তৈরির কাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে কাগজের আকাশচুম্বী দাম যা প্রকাশকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। 

বাংলা একাডেমি আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর যে তারিখ নির্ধারণ করেছে তার ঘোর বিরোধিতা করে প্রকাশকরা বলেছেন যে এই সময়টি সরাসরি পবিত্র রমজান মাসের মধ্যে পড়ছে। রোজার কারণে দেশের সব স্কুল এবং কলেজসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকবে ফলে মেলার মূল প্রাণশক্তি শিক্ষার্থী ও তরুণ পাঠকদের অংশগ্রহণ হবে না বললেই চলে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে দেশে যে সংস্কৃতিবান্ধব ঐতিহ্য শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার জাতীয় গ্রন্থনীতিসহ বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিল সেই ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে প্রকাশকরা বর্তমান নেতৃত্বের কাছে এই শিল্পকে রক্ষার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। 

আহমেদ পাবলিশিং হাউজ থেকে শুরু করে ইউপিএল এবং আদর্শের মতো বড় প্রকাশনীগুলো এই দাবিতে সংহতি জানিয়েছে। তাদের মতে ঈদের পর একটি উৎসবমুখর পরিবেশে পূর্ণাঙ্গ মেলা আয়োজন করা হলে তা যেমন প্রাণবন্ত হবে তেমনি প্রকাশকরাও বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। মেছবাহউদ্দীন আহমদ এবং মাজহারুল ইসলামসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ প্রকাশকরা মনে করেন যে নতুন সরকার জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে বইমেলার তারিখ পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি সঠিক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেবে। জ্ঞান ও সৃজনশীলতার এই মহোৎসব যেন পাঠকশূন্য না হয় এবং প্রকাশকরা যেন পথে না বসেন সেটি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি বলে তারা মনে করেন।