ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্বাচনের পর সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’ এখন জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর হওয়ায় নতুন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কোথায়?
এই প্রশ্নের সমাধান দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’কেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যমুনায় অবস্থান করছেন। তিনি আগামী মঙ্গলবার দায়িত্ব হস্তান্তর করে যমুনা ছেড়ে যাওয়ার পর ভবনটিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী চুনকাম, আসবাবপত্র পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো হালনাগাদ করতে অন্তত এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে।
এই মধ্যবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হয়তো তাঁর নিজস্ব বাসভবন বা বিশেষ ব্যবস্থায় থাকবেন। ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে শেরেবাংলা নগরের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করার প্রস্তাব এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংলগ্ন এলাকাও বিবেচনায় ছিল। তবে লুই আই কানের নকশা জটিলতা এবং যাতায়াতের সুবিধার কথা চিন্তা করে শেষ পর্যন্ত যমুনাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।
যমুনার আড়াই একর জায়গা এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এটিকে রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও উপযোগী মনে করছে মন্ত্রণালয়। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরও গণভবন সংস্কার চলাকালীন কিছুদিন যমুনায় অবস্থান করেছিলেন। গণভবন এখন ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে ইতিহাসের স্মারক হয়ে থাকায় যমুনাই এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে যাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন