ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৫:১৪ এএম
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারের মূল বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় তিনি কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন।প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গ ভাষা শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
এছাড়াও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা বেদিতে শ্রদ্ধা জানান।মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনারগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে তিন বাহিনীর প্রধানগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরাও একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি তাদের কূটনৈতিক সম্মান জ্ঞাপন করেন।
রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ভিভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষ হওয়ার পর সাধারণ মানুষের প্রবেশের জন্য শহীদ মিনার এলাকা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
মধ্যরাত থেকেই ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ হাতে ফুল ও ব্যানার নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনের যাতাকলে একুশের চেতনা দীর্ঘকাল অবরুদ্ধ ছিল। এবার সেই চেতনা মুক্ত হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একটি অবাধ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের রায়ে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি এবং একটি ইনসাফভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এই সরকার কাজ করে যাবে। একুশের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং সেই আদর্শের ভিত্তিতেই সামনের দিনগুলোতে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন