রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

সরকারের নতুন কৃষক কার্ড

টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের আদলে দেশের কৃষকদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করতে যাচ্ছে সরকার। সোমবার এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ সভা শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রমটি ব্যাপক পরিসরে শুরু না হয়ে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে চালু করা হবে। 

সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সেবাপ্রাপ্তি আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা।তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন যে, কৃষকদের বিশেষ কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্তটি নীতিগতভাবে অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল এবং আজকের বৈঠকে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। 

তিনি জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এই কার্ড বিতরণের বিষয়টি তদারকি করছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছে যেখানে এই প্রকল্পের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। 

মন্ত্রী আরও বলেন যে, ফ্যামিলি কার্ডের সফলতার পর এখন কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।কবে নাগাদ এই বিতরণ শুরু হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন যে, প্রস্তুতির অনেক প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কাজ বাকি থাকায় এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব নয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ে এই সেবাটি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। এই স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ধরণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা সরাসরি ভোগ করতে পারবেন। বিশেষ করে সার, বীজ, কীটনাশক এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তিতে এটি একটি ওয়ান-স্টপ সলিউশন হিসেবে কাজ করবে।

এই কার্ডের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে এর স্মার্ট প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এড়িয়ে সরাসরি সরকারের দেওয়া সুবিধাগুলো লাভ করতে পারবেন। এছাড়া এই কার্ড ব্যবহার করে আধুনিক কৃষি জ্ঞান, বাজার পরিস্থিতি এবং তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার বার্তা পাওয়া যাবে। এর ফলে কৃষকরা আগে থেকেই উন্নত চাষাবাদ পরিকল্পনা করতে সক্ষম হবেন। কৃষি উপকরণে সরাসরি সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে সরকার আশা প্রকাশ করছে।