রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আ.লীগ সরকার পতনের দিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল, জানালেন রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম

আ.লীগ সরকার পতনের দিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল, জানালেন রাষ্ট্রপতি

সেদিনের স্মৃতিচারণায় রাষ্ট্রপতি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বঙ্গভবনের ভেতরের থমথমে পরিস্থিতি এবং অতি দ্রুত বদলে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত স্মৃতিচারণা করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন যে, ওই দিন আন্দোলন যখন জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়, তখন কোনো পক্ষই আগে থেকে চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলনা। 

দুপুরের দিকে যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন খবর আসে যে প্রধানমন্ত্রী যেকোনো মুহূর্তে বঙ্গভবনে আসতে পারেন। রাষ্ট্রপতি জানান, দুপুর ১২টার সময় শেখ হাসিনার আসার প্রস্তুতি এবং হেলিকপ্টার প্রস্তুত থাকার খবর পেয়েই তারা পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রথম অনুভব করেন। 

বঙ্গভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সবাই যার যার অবস্থানে সতর্ক থাকেন।তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। রাষ্ট্রপতি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হয় যে প্রধানমন্ত্রী আর বঙ্গভবনে আসছেন না। 

এর অল্প সময় পরেই বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে তিনি দেশ ছেড়েছেন। মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে পুরো দেশের রাজনৈতিক চিত্র আমূল বদলে যায়। বিকেল ৩টার দিকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান টেলিফোনে রাষ্ট্রপতিকে সর্বশেষ পরিস্থিতি অবহিত করেন। এরপর তিন বাহিনীর প্রধানরা সশরীরে বঙ্গভবনে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উদ্ভূত সংকট নিয়ে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সেই সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এই প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

বঙ্গভবনের সেই বৈঠকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি জানান, বৈঠকে তিনটি প্রধান প্রস্তাব উঠে এসেছিল—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে উপস্থিত রাজনীতিবিদরা অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান। 

সিদ্ধান্ত হয় যে সেনাবাহিনী এই সরকারকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। বৈঠকের পর অধ্যাপক আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের কাছে অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং রাষ্ট্রপতি রাত ১১টার দিকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করেন। এই সামগ্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশে একটি নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়ের সূচনা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।