ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১১:০৭ এএম
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি যদি চায় তিনি দায়িত্ব পালন করুন তবেই তিনি পদে থাকবেন, অন্যথায় তিনি নিজেই সম্মানজনকভাবে সরে যাবেন। শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অবস্থান ও গত দেড় বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। বিদেশি গণমাধ্যমে তাঁর পদত্যাগ সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে স্পষ্ট করে তিনি বলেন যে, ওই বক্তব্যটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছিল।
বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে বিভিন্ন ঘটনায় মানসিক চাপ এবং অবমাননার শিকার হওয়ায় এক ধরণের ক্ষোভ থেকে তিনি ওই সময় রাষ্ট্রপতি পদে না থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনটির স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সেই দিনের আন্দোলন যে একটি বিশাল জনবিস্ফোরণে রূপ নেবে তা কেউ আগে থেকে আঁচ করতে পারেনি।
বিক্ষোভকারীরা যখন গণভবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন তাঁকে জানানো হয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেকোনো মুহূর্তে বঙ্গভবনে আসবেন এবং তাঁর জন্য হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত তথ্য ছিল যে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসছেন, কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হয় যে তিনি আসছেন না। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই খবর আসে যে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দেশত্যাগ করেছেন। মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে পুরো পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সেদিন বিকেল ৩টার দিকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান টেলিফোনে রাষ্ট্রপতিকে সামগ্রিক পরিস্থিতি অবহিত করেন। এরপর তিন বাহিনীর প্রধানরা বঙ্গভবনে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। রাষ্ট্রপতি জানান, সেই সময়ে দেশের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত জটিল এবং কিংকর্তব্যবিমূড়। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের ডাকা হবে এবং একটি রাজনৈতিক সমাধান বের করা হবে।
সেনাবাহিনী এই কাজে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের নিয়ে বঙ্গভবনে পুনরায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছায়। তিনটি বিকল্প প্রস্তাবের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা জাতীয় সরকারের পরিবর্তে অন্তর্বর্তী সরকার নামটিই বেছে নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত হওয়ার পর রাত ১১টার সময় রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করেন। সরকার গঠনের মূল প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সেনাবাহিনীর ওপর ন্যস্ত করা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর সাক্ষাৎকারে পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন যে, দেশের বর্তমান প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির সমর্থন থাকলে তিনি তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে যাবেন, অন্যথায় তিনি স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতিও রেখেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন