ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালিমালিপ্ত ও রক্তভেজা দিন। ১৭ বছর আগে ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস হত্যাকাণ্ড। সেই ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পিলখানা ট্র্যাজেডির প্রকৃত নেপথ্য কারণ এবং ন্যায়বিচার নিয়ে জনমনে আজও অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন রয়েছে।
তবে এবারের পরিস্থিতি অনেকটা ভিন্ন। বর্তমান সরকার পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও নতুন তদন্ত কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
নথি অনুযায়ী, সেই দিনটি ছিল বিডিআরের বার্ষিক দরবারের নির্ধারিত সময়। সকাল ৯টায় সদর দপ্তরের দরবার হলে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সশস্ত্র বিদ্রোহীরা মঞ্চে প্রবেশ করে। তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ বক্তব্য দেওয়ার সময় অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর দিনভর চলে বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ ও লুটতরাজ। কর্মকর্তাদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে নির্মমভাবে ব্রাশফায়ার করা হয়। রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিহতদের লাশ সুয়ারেজ লাইনে ফেলে দেওয়া এবং মাটিচাপা দিয়ে গুম করার চেষ্টা চালায় বিদ্রোহীরা। ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের পর বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণ করলেও ততক্ষণে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গিয়েছিল।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সচিবালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জানিয়েছেন যে, পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, এই কলঙ্কজনক ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনঃতদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা হবে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেও এই ঘটনার পুনঃতদন্তের প্রতিশ্রুতি ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেছেন যে, পূর্ববর্তী অসম্পূর্ণ বা বিতর্কিত তদন্তের বদলে একটি নতুন কমিশন কাজ করবে এবং তাদের দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় খুব দ্রুতই কমিশনের সদস্যদের নাম ও কার্যপরিধি ঘোষণা করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পিলখানা ট্র্যাজেডির এই ১৭তম বার্ষিকীতে শহীদ পরিবারগুলো আবারও ন্যায়বিচারের আশায় বুক বাঁধছে। বিজিবি সদর দপ্তরসহ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের খুঁজে বের করা সময়ের দাবি। পিলখানার ঘটনায় ঝরে পড়া প্রতিটি প্রাণের বিনিময়ে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশ মুক্তি পাবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সাধারণ নাগরিক ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন