ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি ঘিরে নানা প্রতীক্ষা ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসের বাস্তবতায় কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর অবশেষে প্রস্তুত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। এবারের মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিকেল থেকেই বইপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত হবে এই প্রাণের প্রাঙ্গণ। মেলা উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ পুরো এলাকায় তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে।
এ বছর বইমেলা আয়োজনে বেশ কিছু নতুনত্ব ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে আয়োজক কমিটিকে। নির্বাচনের কারণে প্রথমে ডিসেম্বর থেকে মেলা শুরুর কথা থাকলেও পরে প্রকাশকদের দাবির মুখে তা পেছানো হয়। মেলা পরিচালনা কমিটি ও নবনিযুক্ত সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘ আলোচনার পর আজ থেকে মেলা শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে।
আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের মেলা ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। তবে ছুটির দিনে মেলা সকাল ১১টা থেকে উন্মুক্ত থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন না।এবারের মেলায় ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি অংশে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১০১৮টি ইউনিট মেলায় থাকবে। এছাড়া ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল দেওয়া হয়েছে এবং শিশুদের জন্য ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের ১০৭টি ইউনিট নিয়ে আলাদা শিশুচত্বর সাজানো হয়েছে।
মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য ইট বিছানো নতুন রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, যাতে পাঠক ও লেখকরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে পারেন।এবারের মেলা রমজান মাসে হওয়ায় দর্শনার্থী ও নামাজিদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে নামাজের জন্য আলাদা জায়গা, অজুর ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ইফতারের আয়োজন রাখা হয়েছে। প্রকাশকদের অনেকে এই পবিত্র মাসে জ্ঞানচর্চার নতুন আবহে মেলা নিয়ে আশাবাদী হলেও কেউ কেউ ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে আয়োজকরা বিশ্বাস করেন, সব প্রতিকূলতা ছাপিয়ে বইমেলা তার নিজস্ব মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় ২৪ ঘণ্টা কার্যকর পুলিশি মনিটরিং নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, বইমেলাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন উস্কানিমূলক প্রকাশনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সোয়াটসহ বিশেষায়িত দলগুলো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন