মার্চ ১, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা তৈরি হলেও বাংলাদেশের জ্বালানি খাত নিয়ে এই মুহূর্তে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের যে মজুদ রয়েছে তা দিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব এবং এতে কোনো বড় ধরনের অসুবিধা হবে না। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে মাঝেমধ্যে জ্বালানির দামে কিছুটা ওঠানামা হতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে সরকারের প্রস্তুতি যথেষ্ট শক্তিশালী এবং বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাকে সরকার বর্তমানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিশেষ করে যারা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাচ্ছেন এবং বর্তমানে বিমানবন্দরে যাত্রার অপেক্ষায় আছেন, তাদের সহায়তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি নিজেই বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছেন। সেখানে প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে যাতে কোনো নাগরিক অসুবিধার সম্মুখীন না হন।
সংকটকালীন পরিস্থিতিতে প্রবাসী কর্মীদের অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়েও কথা বলেন হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, যে দেশগুলোতে বাংলাদেশিরা কাজ করতে যাচ্ছেন, সেই দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে সরকারের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ চলছে। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তাদের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় আলোচনা ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ সবসময় চায় যে কোনো বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা নিরসনে ঢাকা কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে দেশবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখছে এবং দেশের ভেতরে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে বদ্ধপরিকর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসীদের পরিবারের উদ্বেগের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সেখানে দায়িত্বরত দূতাবাসগুলোকে জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে এবং প্রবাসী কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ও প্রবাসী কল্যাণ নিশ্চিত করতে আগামী দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হবে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন