বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন কি থাকছেন? যা বলছে বিএনপি

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৭, ২০২৬, ০১:০১ পিএম

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন কি থাকছেন? যা বলছে বিএনপি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

বাংলাদেশে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়া বা ওই পদে পরিবর্তনের কোনো প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে রাষ্ট্রপ্রধান পরিবর্তনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। 

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর থেকে রাজনৈতিক মহলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হলেও দলীয়ভাবে বিষয়টি এখনো আলোচনার টেবিলে ওঠেনি। বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী মেয়াদের আগেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়ে ধারণা পোষণ করলেও শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত সংবিধান সমুন্নত রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছর মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সেই হিসেবে ২০৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত তার পদে থাকার আইনগত সুযোগ রয়েছে। 

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে অথবা তাকে অভিশংসন বা অপসারণ না করা পর্যন্ত নতুন কাউকে এই পদে নিয়োগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদিও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি নিয়োগ পেয়েছিলেন তবুও বিএনপি সরকার এখনই কোনো সাংবিধানিক জটিলতা বা অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে না। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও যখন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি উঠেছিল তখন বিএনপি সংবিধান রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল রাষ্ট্রপতিকে হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া হলে দেশে আইন বহির্ভূত একটা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথা অনুযায়ী সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে যা সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে। তবে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এই ভাষণের বিরোধিতা করছে এবং রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের দাবি তুলেছে। 

তাদের এই অবস্থানের প্রতি সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীরও এক প্রকার সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বিএনপি সরকার এসব দাবিকে সরাসরি আমল না দিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছে। সংসদের প্রথম দিনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে যেখানে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করেন এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করলে তার মেয়াদ সরকারের মেয়াদের সঙ্গেই শেষ হবে যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পরবর্তী নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরত আনা হলে সেই সময়ে একটি স্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থাকা প্রয়োজন। তবে ভিন্নমত পোষণকারী অনেক সাধারণ নেতা-কর্মী মনে করেন আওয়ামী লীগ ঘরানার কাউকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বহাল রাখা যৌক্তিক নয়। 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজেও সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে সরকার যদি মনে করে তাকে সরে যাওয়া উচিত তবে তিনি সম্মানজনকভাবে সরে যেতে প্রস্তুত আছেন। আপাতত ১২ মার্চের সংসদ অধিবেশন ও রাষ্ট্রপতির ভাষণকেই নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং বিএনপি আপাতত পর্যবেক্ষক ভূমিকায় রয়েছে।