সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ব্যবসায়ীদের অশুভ পন্থা বর্জনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৭, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

ব্যবসায়ীদের অশুভ পন্থা বর্জনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র রমজান মাসে ব্যবসায়ী সমাজকে কোনো প্রকার অশুভ বা অনৈতিক পন্থা অবলম্বন না করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এই বিশেষ বার্তা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র এই মাস সংযম ও ত্যাগের মাস। 

তাই যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি বা পণ্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে তারা যেন এমন অমানবিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকেন। মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করতে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান।

চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও জ্বালানি সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় সংকোচনের উদ্দেশ্যে বড় পরিসরে এটিই হবে সরকারের শেষ ইফতার আয়োজন। 

তিনি মনে করেন, জনগণের কষ্টের সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত আড়ম্বর বর্জন করাই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। ইফতার মাহফিলে তারেক রহমান দেশের যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করার পরিকল্পনার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দারিদ্র্য নিরসনে সরকার যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক করার চিন্তা করছে, যেখানে প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে প্রায় ৫ লাখ পরিবারকে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত যাকাত প্রদান করা হবে। এছাড়া বর্তমান যাকাত বোর্ডকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুনর্গঠন করার প্রক্রিয়াও হাতে নেওয়া হচ্ছে।

ইফতার মাহফিলে দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। এছাড়াও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকসহ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। 

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং প্রেস সচিবসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। সরকার প্রধানের এমন ঘোষণা এবং আলেমদের সাথে এই মেলবন্ধনকে উপস্থিত সুধীজন ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।