মার্চ ১২, ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শুরু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দেড় দশকের একতরফা সংসদীয় ব্যবস্থার অবসানের পর এই নতুন সংসদের যাত্রা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও অধিবেশন শুরুর আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি ও তাদের মিত্রদের সাথে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে তৈরি হওয়া বিরোধ প্রথম দিনেই সংসদীয় কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থান সংসদীয় পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
আজকের অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করার কথা রয়েছে। বর্তমান সংসদের স্পিকার পদটি শূন্য এবং ডেপুটি স্পিকার কারাবন্দি থাকায় সংসদের একজন সিনিয়র সদস্যের সভাপতিত্বে কার্যক্রম শুরু হবে। এক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতির জন্য প্রস্তাব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নবনির্বাচিত স্পিকার হিসেবে ড. আব্দুল মঈন খানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। স্পিকার নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দেবেন। তবে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ নিয়ে বিরোধী দল তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের সাফ জানিয়েছেন যে তারা এই রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে আগ্রহী নন এবং প্রয়োজনে অধিবেশন বর্জন করতে পারেন।
সংসদের প্রধান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ইস্যু। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর দাবি হচ্ছে গণভোটে অনুমোদিত চারটি বিষয় হুবহু বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পুনরায় শপথ নিতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মনে করেন জুলাই বিপ্লবকে পাশ কাটিয়ে ছাব্বিশের অস্তিত্ব থাকতে পারে না।
অন্যদিকে সরকারি দল বিএনপি সনদের কিছু বিষয়ে ভিন্নমতের কথা জানিয়ে বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোতেই সংস্কার সম্পন্ন করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে দলের সভায় জানিয়েছেন যে সরকার কেবল বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলো নিয়েই কাজ করবে যা নিয়ে বিরোধীরা ক্ষুব্ধ।
আজকের প্রথম দিনের কার্যসূচিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এই অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হবে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে আজকের পর দুদিন বিরতি দিয়ে ১৫ মার্চ পুনরায় বৈঠক বসবে এবং ঈদুল ফিতরের বিরতির পর এপ্রিল পর্যন্ত এই অধিবেশন দীর্ঘ হতে পারে। সরকারি দল সংসদকে কার্যকর ও অর্থবহ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ না করা এবং সংস্কার ইস্যুতে অনড় থাকা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী দিনগুলোতে সংসদের ভেতর বিতর্ক ও বাকবিতণ্ডা তীব্র হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন