রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাইল বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ১২, ২০২৬, ০৯:৪২ এএম

রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাইল বাংলাদেশ

মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম যখন আকাশচুম্বী, ঠিক তখনই বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানিতে বিশেষ সুবিধা পেতে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারস্থ হয়েছে বাংলাদেশ। রাশিয়া থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি তেল কেনার জন্য ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অস্থায়ী বিশেষ অনুমতি বা ওয়েভার চেয়েছে ঢাকা। 

প্রতিবেশী দেশ ভারতকে দেওয়া একই ধরনের সুযোগ যেন বাংলাদেশের জন্যও নিশ্চিত করা হয়, সেই মর্মে মার্কিন প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। বুধবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিসটেনসেনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান যে রাশিয়ার তেল আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছেন। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ভারতকে যে ধরনের অস্থায়ী ছাড় প্রদান করেছে, বাংলাদেশও একই ধরনের সুযোগ পাওয়ার প্রত্যাশা করে। 

আমির খসরু বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছে আমাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছি এবং স্পষ্টভাবে বলেছি যে বাংলাদেশকেও যদি ভারতের মতো বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয় তবে তা দেশের বর্তমান অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন এবং প্রস্তাবটি দ্রুত ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দপ্তরে পাঠাবেন বলে বাংলাদেশ সরকারকে আশ্বস্ত করেছেন।বৈঠকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। 

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার কারণে বর্তমানে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে বৈঠকে রাশিয়ার তেলের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যখন অনিশ্চিত, তখন আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য বিকল্প ও সাশ্রয়ী উৎস খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি। রাশিয়া থেকে তুলনামূলক কম দামে তেল আমদানি করা সম্ভব হলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি খাতের ওপর তৈরি হওয়া বাড়তি চাপ অনেকটাই কমে আসবে। বাংলাদেশ সরকার এখন মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র এই অনুরোধ রক্ষা করলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।