রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার হচ্ছেন মেজর (অব.) হাফিজ

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ১২, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার হচ্ছেন মেজর (অব.) হাফিজ

সংসদ অধিবেশনে নতুন স্পিকার

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এই অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কে হচ্ছেন নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। যদিও বিজয়ী দল বিএনপি এই বিষয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখেছে।

তবে দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে সরকারের বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) নতুন স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। একই সাথে ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও নবনিযুক্ত চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।

নতুন স্পিকার হিসেবে সম্ভাব্য তালিকায় শীর্ষে থাকা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের রয়েছে অত্যন্ত বর্ণাঢ্য এবং বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার। মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত হন। 

রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একজন সফল ক্রীড়াবিদ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন এবং নব্বইয়ের দশকের আগ পর্যন্ত টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তার বাবা ডাক্তার আজহার উদ্দিনও পাকিস্তান আমলে দুইবার প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। মূলত পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসরণ করেই তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোলা-৩ আসন থেকে মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হলেও ১৯৯১ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করে চমক দেখান। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং এরপর প্রতিটি নির্বাচনেই দলটির হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি পাট এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। 

বর্তমানে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দলকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রেও তার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ৮১ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সংসদীয় জ্ঞানকে কাজে লাগাতেই তাকে স্পিকারের আসনে বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।