মার্চ ১৫, ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়াকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রবিবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান যে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজন বা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মূলত মেধার মূল্যায়ন এবং শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতেই সরকার এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে।
সংসদ অধিবেশনে হাসনাত আব্দুল্লাহ তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন যে আগে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে মেধা যাচাই বা মেরিট পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো।
তবে বর্তমানে লটারির মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা মূল্যায়ন হচ্ছে না। এর ফলে ফিডার ইনস্টিটিউটগুলোতে শিক্ষার মান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভালো মানের শিক্ষার্থী পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শহর ও গ্রামের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
গ্রামীণ এলাকায় ভর্তি নিয়ে খুব একটা প্রতিযোগিতা না থাকলেও ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে লটারি পদ্ধতি নিয়ে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে বিগত সরকার যে লটারি সিস্টেম চালু করেছিল তা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত বলে তিনি মনে করেন না। এ সময় তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন যে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবং শিক্ষার্থীদের মেধার প্রতিফলন ঘটাতে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। আগামী বছরের ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে সবার মতামত নেওয়া হবে।
রোববার বেলা ১১টায় স্পিকার মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচিতে প্রশ্নোত্তর পর্বের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ নিষ্পত্তি এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় মন্ত্রী শিক্ষা খাতের নানামুখী সংস্কারের কথা উল্লেখ করেন। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো মেধাভিত্তিক একটি শক্তিশালী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে লটারি নয় বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল্যায়িত হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন