মার্চ ১৬, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান লটারি পদ্ধতি বাদ দিয়ে পুনরায় মেধা যাচাই বা ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত `নির্বাচনী ইশতিহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষাখাত` শীর্ষক সেমিনারে এই আভাস দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহাদী আমিন।
তিনি বলেন, সরকার লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে আবারও পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির দিকে যেতে চায়।এর আগে গত রোববার সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, লটারি পদ্ধতি মেধার অবমূল্যায়ন করছে কি না এবং এটি কতটা কার্যকর, তা সরকার গুরুত্বের সাথে পুনর্বিবেচনা করছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ভর্তি প্রক্রিয়া কেমন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ওই বছরই।
বড় শহরগুলোতে ভর্তির তীব্র প্রতিযোগিতা থাকলেও গ্রামীণ বাস্তবতায় এর প্রভাব ভিন্ন, তাই সকল অংশীজন ও অভিভাবকদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাখাতের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপডেট শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং সরকার এখন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চেয়ে বিদ্যমানগুলোর মানোন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া, শিক্ষাখাতে জনবল সংকট কাটাতে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যদিও কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে, তবে সরকার সকল ধর্মের অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে দ্রুত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আশাবাদী।লটারি পদ্ধতির ভবিষ্যৎ এবং মেধা যাচাইয়ের নতুন কাঠামোর এই পরিবর্তনের আভাস দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বড় ধরণের মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা মেধার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতার পক্ষে, তারা সরকারের এই ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন