মার্চ ২৪, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসসহ সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন বিশেষ দিবসে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১৯৭২ সালে প্রণীত এবং ২০১০ সালে সংশোধিত জাতীয় পতাকা বিধিমালায় বর্ণিত নিয়মগুলো প্রতিপালন করা দেশের প্রতিটি নাগরিকের আবশ্যিক কর্তব্য হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হচ্ছে সবুজ ক্ষেত্রের ওপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত। আইন অনুযায়ী পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং তার মাঝে থাকবে একটি লাল বৃত্ত।
জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত হতে হবে ১০:৬। তবে ভবনের আয়তন ও ধরন অনুযায়ী পতাকা ব্যবহারের তিনটি নির্দিষ্ট মাপ নির্ধারিত রয়েছে যা হলো ১০:৬, ৫:৩ এবং ২.৫:১.৫। পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে যার মধ্যে অন্যতম হলো কোনো অবস্থাতেই মোটরযান, রেলগাড়ি বা নৌযানের কোনো অংশ পতাকা দিয়ে আচ্ছাদিত করা যাবে না।
এছাড়া বাংলাদেশের পতাকার ওপরে অন্য কোনো দেশের বা অন্য কোনো রঙের পতাকা উত্তোলন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি কোনো দেয়ালে পতাকা প্রদর্শন করতে হয় তবে তা অবশ্যই দেয়ালের সমতলে স্থাপন করতে হবে। আবার কোনো জনসভায় বা অডিটোরিয়ামে পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা বক্তার পেছনের দিকে উঁচুতে স্থাপন করার নিয়ম রয়েছে।পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে মর্যাদার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে।
কবরস্থানে জাতীয় পতাকা কখনো নিচু করা যাবে না কিংবা এটি যেন কোনোভাবে ভূমি স্পর্শ না করে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। পতাকা সর্বদা ঊর্ধ্বে এবং মুক্ত অবস্থায় থাকবে এবং তা দ্রুততার সাথে উত্তোলন করে অত্যন্ত সম্মানের সাথে নামাতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে বা আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলনের সময় জাতীয় সংগীত গাইতে হবে এবং উপস্থিত সকলকে পতাকার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। ইউনিফর্মধারী ব্যক্তিরা যথাযথভাবে স্যালুট প্রদান করবেন। এছাড়া পতাকার ওপর কোনো কিছু লেখা বা মুদ্রণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন