এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১০:০৭ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিসসহ ব্যাংক ও বিপণিবিতানের সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্ত আজ রোববার ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ থেকে সব সরকারি ও আধা-সরকারি এবং বেসরকারি অফিস সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। স্বাভাবিক সময়ে অফিস কার্যক্রম বিকাল ৫টা পর্যন্ত চললেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে কর্মঘণ্টা এক ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত শনিবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন সময়সূচি জারি করে। তবে সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে শুক্র ও শনিবার যথারীতি বহাল থাকবে।
জরুরি পরিষেবাগুলোকে এই পরিবর্তিত সময়সূচির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস ও বন্দর কার্যক্রমের মতো সেবাগুলো আগের মতোই স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। এছাড়া হাসপাতাল, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, পরিচ্ছন্নতা সেবা এবং গণমাধ্যমের যানবাহন ও কর্মীরা এই বিশেষ নির্দেশনার বাইরে থাকবেন। আদালতের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন বলে জানা গেছে।
ব্যাংকিং খাতের ক্ষেত্রেও সময়সূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী আজ রোববার থেকে ব্যাংকগুলোতে গ্রাহক লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত। তবে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্নের জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করতে হবে। সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংকের শাখা বা বুথগুলোর কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থে সেগুলো আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশের সব বিপণিবিতান, মার্কেট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদিও ব্যবসায়ী নেতারা রাত ৮টা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন তবে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপাতত সন্ধ্যা ৬টার সময়সীমা বজায় রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এই পদক্ষেপে বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা কলকারখানার কর্মঘণ্টা শ্রম আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের পাঠদান যেন ব্যাহত না হয় সেজন্য সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে এবং তিন দিন সশরীর ক্লাসের একটি প্রস্তাব বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের অনলাইন ক্লাসে যুক্ত করার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রেখে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এর আগে ২০২২ সালেও জ্বালানি সাশ্রয়ে একইভাবে অফিসের সময় কমানো হয়েছিল যা ২০২৪ সালের জুনে আবার স্বাভাবিক করা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার পুনরায় সেই সাশ্রয়ী নীতিতে ফিরে গেল। মূলত রমজান ও ঈদের লম্বা ছুটির পর জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এই নতুন ব্যবস্থাগুলো দেশের অর্থনীতি ও সেবার ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সময়সূচির বিষয়ে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন