রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

টাইমের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

টাইমের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

টাইমের তালিকায় তারেক রহমান

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার মার্কিন প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম তাদের ২০২৬ সালের ‘দ্য ১০০ মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পিপল’ শীর্ষক তালিকাটি প্রকাশ করে। এই তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মতো প্রভাবশালী বিশ্বনেতাদের নামের পাশেই ঠাঁই পেয়েছেন বাংলাদেশের এই নতুন রাষ্ট্রনায়ক। 

মূলত তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, দীর্ঘ লড়াই এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তারেক রহমান সম্পর্কে টাইমের বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাত্র কয়েক বছর আগেও এই রাজনীতিক লন্ডনের উপকণ্ঠে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তাঁর দেশে ফেরা এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। 

প্রতিবেদনে তাঁকে তাঁর মা ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তাঁর মায়ের মৃত্যু তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে শোকাচ্ছন্ন করলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি দ্রুত নিজেকে গুছিয়ে নেন এবং ১৭ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার পথে হাঁটা শুরু করেন।টাইম ম্যাগাজিনের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। 

বর্তমানে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যুব বেকারত্ব এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্যের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। টাইমের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় রাজনীতির বাইরে থাকলেও তিনি এখন আর সময় নষ্ট করতে চান না। দুর্নীতির পুরনো অভিযোগগুলো আদালত থেকে খারিজ হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে সচল করতে জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত জরুরি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তারেক রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, বরং তিনি আধুনিক বাংলাদেশের সংস্কারের পথপ্রদর্শক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে চাইছেন। তিনি মনে করেন, মানুষের রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারই হলো দেশের উন্নয়নের প্রধান শর্ত। বিশ্বমঞ্চে তাঁর এই অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবময় মুহূর্ত। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো মনে করছে, টাইমের এই তালিকা কেবল একজন ব্যক্তির স্বীকৃতি নয়, বরং এটি পরিবর্তিত বাংলাদেশের নতুন যাত্রার প্রতি বিশ্বের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। এখন তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা।