বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গত বছর সাগরে ডুবে মারা গেছেন প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা: জাতিসংঘ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

গত বছর সাগরে ডুবে মারা গেছেন প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা: জাতিসংঘ

সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গা দল

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য গত বছরটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সময়। শুক্রবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক উদ্বেগজনক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে সমুদ্রপথে যাত্রা করতে গিয়ে প্রায় ৯০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন। আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরের এই রুটটিকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সংস্থাটি বলছে।

চলতি ২০২৬ সালেও মৃত্যুর এই মিছিল থামছে না বরং ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে চলতি মাসের শুরুতে একটি বড় ধরনের জাহাজডুবির ঘটনায় কয়েক শ মানুষ নিখোঁজ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই তথ্য সামনে আনা হয়েছে।

জেনেভায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র বাবর বালুচ জানান, গত বছর অন্তত ৬ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে উন্নত জীবনের আশায় বিপজ্জনক যাত্রা শুরু করেছিলেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রীদের মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন হয় নিখোঁজ হয়েছেন অথবা সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন। 

বিশ্বব্যাপী শরণার্থী ও অভিবাসীদের ব্যবহৃত প্রধান সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে এই অঞ্চলেই বর্তমানে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি বলে বাবর বালুচ সতর্ক করেছেন। একে জাতিসংঘের রেকর্ডে এই অঞ্চলের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।মূলত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী এবং বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত থেকে বাঁচতে এই শরণার্থীরা মরিয়া হয়ে সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন। বাংলাদেশের কক্সবাজারের জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। 

সেখানে কাজের অভাব, খাদ্যের সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতা তাঁদের এই বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে বর্তমানে সামরিক পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় নতুন করে অনেকে পালানোর চেষ্টা করছেন। জাতিসংঘ বারবার এই মানবিক বিপর্যয় রোধে আঞ্চলিক দেশগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানালেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ফলে অনিশ্চিত গন্তব্যের টানে উত্তাল সমুদ্রে রোহিঙ্গাদের প্রাণহানি কেবল একটি সংখ্যায় পরিণত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া এই ট্র্যাজেডি বন্ধ করা অসম্ভব বলে মনে করছে সংস্থাটি।