রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কার্টুন শেয়ারে গ্রেপ্তার ও জবাবদিহিতা নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

কার্টুন শেয়ারে গ্রেপ্তার ও জবাবদিহিতা নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

জাতীয় সংসদকে কেবল একতরফা আলোচনার কেন্দ্র বা ‘মনোলগ সেশন’ না বানিয়ে মন্ত্রীদের সরাসরি প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। একইসঙ্গে রাজনৈতিক স্যাটায়ার বা কার্টুন শেয়ার করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ও সাধারণ মানুষের ওপর দমন-নিপীড়নের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। 

আজ রোববার বিকেলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, একটি প্রকৃত গণতন্ত্র ও কার্যকর সংসদের জন্য মন্ত্রীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে সংসদ সদস্যদের কথা বলার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে। 

গত দুই সপ্তাহ ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, তারকা চিহ্নিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো কেবল টেবিলে উপস্থাপন করা হচ্ছে, কিন্তু সেগুলোর কোনো মৌখিক উত্তর দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে সংসদ সদস্যরা সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ হারাচ্ছেন, যা সরাসরি তাদের সংসদীয় অধিকার খর্ব করছে।হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে যে লিখিত স্ক্রিপ্ট তৈরি করে দেওয়া হয়, মন্ত্রীরা সংসদে কেবল সেটিই পাঠ করছেন। এর ফলে মন্ত্রীদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের যে জবাবদিহিতার সম্পর্ক থাকা উচিত, তা কোনোভাবেই নিশ্চিত হচ্ছে না। 

সংসদ এখন অনেকটা স্ক্রিপ্টেড একটি সেশনে পরিণত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই বিষয়টি দ্রুত রুলস অব প্রসিডিউরে অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধনের দাবি জানান তিনি।অধিবেশনে কার্টুন শেয়ারের কারণে আহসান হাবিব নামের এক ব্যক্তির গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে তুলে ধরেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, একটি নির্বাচনের পর স্যাটায়ার বা কার্টুন শেয়ার করার কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে—এটি কল্পনাও করা যায় না। 

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, স্বয়ং চিফ হুইপ নিজেই তিমি ও হাঙ্গরের স্যাটায়ার করেছিলেন, যা সবাই বুঝতে পেরেছিল। কিন্তু সেই একই ধরনের কার্টুন শেয়ার করায় সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। এটিকে ভিন্নমত দমনের একটি কৌশল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এ ধরনের আইনে গ্রেপ্তার ও জামিন না দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন যে, সংসদ প্রাণবন্ত থাকুক এটি সবাই চায়। তবে এ ধরনের আলোচনার জন্য সংসদীয় বিধি মেনে আগে নোটিস দিতে হবে। অন্যদিকে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর দীর্ঘ আলোচনার বাধ্যবাধকতা থাকায় সময় বাঁচাতে প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে দেওয়া হচ্ছে। তবে সংসদ সদস্যরা চাইলে অধিবেশনের সময় বাড়িয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব মৌখিকভাবে করতে কোনো আপত্তি নেই। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকার বা তার দল জবাবদিহিতাকে ভয় পায় না।

কার্টুন নিয়ে গ্রেপ্তারের বিষয়ে চিফ হুইপ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নন, বরং কুরুচিপূর্ণ প্রচারণার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ভুয়া আইডি ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে, যার বিচার হওয়া প্রয়োজন। তবে তিনি স্পিকারের মাধ্যমে অনুরোধ করেন যে, যদি কেবল কার্টুন আঁকার কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে, তবে তাকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি যদি সাইবার ক্রাইম বা মানব পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকেন, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সংসদের এই বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক ও বাকস্বাধীনতার প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।