এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১২:০২ পিএম
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন শেষে আবারও নিজের চিরচেনা শিক্ষকতা পেশায় ফিরে গেছেন ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। দেশের সংকটময় মুহূর্তে ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে পালন করার পর তিনি পুনরায় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আল-জামিয়াতুল আরাবিয়াতুল ইসলামিয়া (জিরি মাদ্রাসা)-য় নিয়মিত পাঠদান শুরু করেছেন।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মোহ ছেড়ে আবারও জ্ঞানের আলো ছড়াতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে আসা এই শিক্ষকের প্রত্যাবর্তন পটিয়াসহ সারা দেশের শিক্ষাঙ্গনে এক নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।
উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে হজ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং হাজীদের উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছিলেন ড. খালিদ হোসেন। বর্তমানে তিনি জিরি মাদ্রাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে সপ্তাহে দুই দিন তিরমিজি শরীফ ও তাহেরিকে দারুল উলুম দেওবন্দ বিষয়ে ক্লাস নিচ্ছেন।
গত ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বেলা পৌনে ১টা পর্যন্ত তাকে নিবিড়ভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে দেখা গেছে। প্রিয় শিক্ষককে পুনরায় কাছে পেয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সহকর্মী শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম (মহাপরিচালক) মাওলানা খুবাইব বিন তৈয়ব গর্বের সাথে জানান, ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ২০২১ সাল থেকে তাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময় দিতে না পারলেও দায়িত্ব শেষ করে আবারও এই বিদ্যাপীঠে ফিরে আসায় মাদ্রাসার মর্যাদা বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে তার এই প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিশেষ উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ড. খালিদ হোসেন বর্তমানে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে তার নির্ধারিত বিষয়গুলো পড়ানো শুরু করেছেন।
নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়ে সাবেক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, শিক্ষকতাই তার মূল পরিচয় এবং জীবনের এই পর্যায়ে এসে শিক্ষার্থীদের মাঝে থাকতে পেরে তিনি পরম আনন্দিত। তিনি বলেন, জীবনের বাকি সময়টুকু তিনি জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার সঙ্গেই অতিবাহিত করতে চান। এর আগে তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করেছেন এবং মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যস্ততা কমানোর জন্য তিনি ইতিমধ্যে কিছু অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বলে জানান।
জিরি মাদ্রাসার পড়াশোনার পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখানকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চমৎকার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং কোনো ধরনের দলাদলি নেই। মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানায়, হুজুরের ক্লাস তারা অত্যন্ত উপভোগ করে। তিনি কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ও নৈতিক শিক্ষার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পরও তাদের শিক্ষক আবারও সাধারণ বেশে ক্লাসে ফিরেছেন—এটি তাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও শিক্ষা জীবন অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ছাত্রজীবনে তিনি মূলধারার সংবাদপত্রে কাজ করার পাশাপাশি একজন লেখক ও গবেষক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন আল-জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায় শিক্ষকতা করেছেন। মধ্যপন্থী আলেম হিসেবে পরিচিত এই গুণী ব্যক্তিত্বের ফিরে আসা কেবল একটি মাদ্রাসার জন্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক ইসলামী জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন